বাফুফে হতে আগের দিন বলা হলো সবকিছু ঠিকঠাক আছে। সৌদি আরব যেতে সোমবার বেলা ১১টায় কাতারের বিমান ধরবেন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। সবকিছু গুছিয়ে খেলোয়াড়রা প্রস্তুত কিন্তু রাতেই তারা জানতে পারেন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে সৌদি আরব যাওয়া হচ্ছে না।
দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বললেন, ‘রবিবার রাতে একটা-দেড়টার সময় আমরা খবর পেয়েছি কোয়ারেন্টাইন করার বিষয়টা। আন্দাজে সৌদি আরব গিয়ে তো লাভ নেই। ওখানে গিয়ে কয়দিন কোয়ারেন্টাইন করতে হবে কোথায় করতে হবে সেটা লাগবে।
কাতারে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। কাতার যাওয়ার আগে সৌদি আরবের দাম্মামে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা। যাওয়া হচ্ছে না—এমন খবরে হতাশ দলের কোচ জেমি ডে, হতাশার কথা জানিয়েছেন দলের ফুটবলাররাও।
কোয়ারেন্টাইন শিথিল সংক্রান্ত ডকুমেন্ট হাতে না পাওয়াতে সোমবার সৌদি যাওয়া হয়নি বাংলাদেশ ফুটবল দলের। এমন খবরে হতাশ কোচ জেমি ডে বলেছেন, ‘বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই হতাশার। যেখানে অন্য দলগুলো আগে কাতার চলে গেছে। আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতিটা থেকেই গেল।’ বাফুফের কিছু কর্মকর্তার অদূরদর্শিতায় খেলোয়াড়, কোচকে লজ্জায় পড়তে হলো।
দেশের ফুটবল নিয়ে জাতির সঙ্গে যেন তামাশা করা হচ্ছে। করোনাকালে বিদেশে যাওয়ার যেসব শর্ত রয়েছে তা মেনে নিতে হবে। শিথিল করা হলে সেটিও নথিপত্র দেখাতে হবে। বাফুফে এসব নথিপত্র না পেয়ে কীভাবে বিমানের খেলোয়াড়দের ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুত করল ? বাফুফে কেনই বা জাতীয় দলের প্রশ্নে এমন খামখেয়ালিপনা করছে তা ফুটবল সংশ্লিষ্টরাও বুঝতে পারছেন না। লাখ টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে। তিনি তার কাজ পরিচালনার জন্য রেখেছেন প্রয়োজনের চেয়েও বেশি লোকবল। তার পরও জাতীয় দলকে নিয়ে জাতির কাছে হেয় করার কারণ কী। বাফুফেতে মাথাভারী প্রশাসন। কাজের চেয়ে লোকবলের সংখ্যা বেশি।
এই যে সৌদি আরবে যাওয়া হলো না। প্রস্তুতি ম্যাচও খেলা হলো না এটা কি জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন? জেমির উত্তর, ‘আমরা আগে যেতে পারলে সেখানের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারতাম। ফুটবলাররা অবশ্যই মন খারাপ করেছে। ওদের হয়ে কিছু বলতে চাই না। যদি আগামীকাল (আজ) যাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে দু-তিন দিনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। তার থেকে কাতার যাওয়াই ভালো হবে। এ বিষয়ে বাফুফের সঙ্গে কথা বলব।’ সৌদি যাওয়া হয়নি। তাই গতকাল সকালে ঢাকাতেই আবারও অনুশীলন করেছে জাতীয় দল।
বাংলাদেশ ফুটবল দল
আনিসুর রহমান জিকো (গোলরক্ষক), বিশ্বনাথ ঘোষ, রিমন হোসেন, মাসুক মিয়া জনি, বিপলু আহমেদ, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মতিন মিয়া, তপু বর্মন, ইব্রাহিম (করোনা নেগেটিভ হলে যাবেন ইব্রাহিম), তারিক কাজী (বসুন্ধরা কিংস)। গোলকিপার রাসেল মাহমুদ লিটন (রহমতগঞ্জ)। গোলকিপার শহিদুল আলম সাহেল, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিন (আবাহনী)। রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত, জামাল ভূঁইয়া (সাইফ স্পোর্টিং)। মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান রয়েল, ইমন (মুক্তিযোদ্ধা)। আবদুল্লাহ (শেখ রাসেল)। মানিক হোসেন মোল্লা, রাকিব হোসেন (চট্টগ্রাম আবাহনী)। হাবিবুর রহমান সোহাগ (মোহামেডান)। সুমন রেজা (উত্তর বারিধারা)। মোহাম্মদ জুয়েল (পুলিশ এফসি)।
