করোনায় তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা

আপডেট : ২৪ মে ২০২১, ২২:১৭

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর লকডাউনের আওতায় দেশ। কিন্তু এক দিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি দেশের আদালতসমূহ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে চলছে কোর্টসমূহ। এতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীরা মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন। ন্যায়বিচার পাচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বলছে, দেশে আইনের শাসন বলবত্ রাখার লক্ষ্যে এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে করোনাকালীন ভয়াবহ অতিমারির এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচার কাজ পরিচালিত হচ্ছে। বন্ধ থাকেনি নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রম। আইনজীবীরা শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে গত ১০ মাস ধরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম চলছে। চলছে হাইকোর্টের ১৬টি বেঞ্চের বিচার কাজ। এসব বেঞ্চ ফৌজদারি ও দেওয়ানি মোশনসহ রিট সংক্রান্ত মামলার শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করছে। তবে বন্ধ রয়েছে আগাম জামিন আবেদনের শুনানি। এছাড়া আপিল বিভাগ নিষ্পত্তি করছে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন আবেদনসমূহ। আর নিম্ন আদালতে চলছে জামিনসহ বিভিন্ন নালিশি আবেদনের শুনানি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত ২৬ কার্যদিবসে অধস্তন আদালত থেকে জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন ৪৪ হাজার হাজতি। যারা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক ছিলেন।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু। তখনই সরকার লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের রক্ষায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকার ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ জারি করে। এই অধ্যাদেশ জারির পরই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধস্তন আদালতে জামিন সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। জারি করা হয় সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্র্যাকটিস ডাইরেকশন। অধস্তন আদালতের পর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচার কার্যক্রম। গত ১০ মাস ধরে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে বিচার কাজ চলছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। এ সময়ে আপিল বিভাগে ১০ হাজারের ওপর মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এরমধ্যে চলতি মাসে ঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যে আপিল বিভাগের ১ নম্বর বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে বিচার কাজ চলছে। এছাড়া হাইকোর্টের ১৭টি বেঞ্চে চলছে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ। গতকাল শনিবার আরো ৯টি দ্বৈত ও একক বেঞ্চকে ফৌজদারি ও দেওয়ানি এবং রিট মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এসব বেঞ্চে আইনজীবীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন। এমনকি সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করলেও অনেক আইনজীবী সেসব দেশ থেকে মক্কেলের পক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধমে। এতে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকার পাশাপাশি কঠোরভাবে অনুসরণ হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ জারি ও তা ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করে দেশের বিচার বিভাগ। এর মাধ্যমে এখন কারাগার থেকে আদালতে আসামি হাজির না করেই জামিন ও রিমান্ড আবেদনের শুনানি করছেন বিচারকরা। এ সবই সম্ভব হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়।

হাইকোর্টের স্পশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এই অতিমারির সময়ে বিচারক, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং যাচ্ছেন। এতে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।