কক্সবাজারের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন সফররত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে সেখানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি সেখানে যেতে পারছি না, তবে একটি ভিডিও দেখানো হয়েছে। আমি সেখানকার মানসম্মত ভবন নির্মাণের প্রশংসা করি। এটি বাংলাদেশের মানবতার উদাহরণ। আমি মনে করি, উদ্বাস্তুদের ব্যবস্থাপনায় এটি বিশ্বের জন্য উদাহরণ। তিনি বলেন, আমি কক্সবাজার যাচ্ছি এবং সেখান থেকে মিয়ানমারকে একটি বার্তা দেব।
মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসংঘ দ্বিধা-বিভক্ত বলে জানান ভলকান বজকির। তিনি বলেন, ছয় সপ্তাহ আগে সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। কারণ মিয়ানমার নিয়ে দুটি পক্ষের মতবিরোধ একেবারে স্পষ্ট। আসিয়ান দেশগুলো মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি সমর্থন করছে না। অন্যদিকে কোর গ্রুপ সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চায়।
সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি বলেন, মিয়ানমার ইস্যুতে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার অনুপস্থিতিতে দুই গ্রুপ আলোচনায় বসেছিল। আমি ফিরে গিয়ে দুই গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করব। কারণ, এটি শুধু মিয়ানমারের ইস্যু নয়, বরং সারা বিশ্বের ইস্যু। আমি আশাবাদী, মিয়ানমার ইস্যুতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তরের এই পরিকল্পনা নেয় সরকার। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ঐ দ্বীপে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচ দফায় মোট ১২ হাজার ২৮৪ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে ভলকান বজকির বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং এলডিসি থেকে উন্নীত হয়ে নতুন পর্যায়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিও অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সবচেয়ে বেশি পুলিশ ও সেনাসদস্য পাঠানোর জন্যও প্রশংসা করেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের প্রতি আমি সমর্থন করি। জনগণ যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আসেন জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন তিনি।
