অন্তিম শয়ানে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ২২:৩০

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী আর নেই। কোলন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে চলে গেলেন তিনি। গত সোমবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ... রাজেউন)। গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন ও দুই দফা জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। তার মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা কবিতায় এক বিশিষ্ট নাম। তার কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতি ও সংগ্রামী ঐতিহ্য অসাধারণ ব্যঞ্জনায় ভাস্বর হয়েছে। মননশীল গদ্য রচনায়ও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। পাশাপাশি শিশুসাহিত্য এবং দেশ-বিদেশের কবিতার অনুবাদেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ ছিল হাসপাতালের হিমঘরে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কবির মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তার কর্মস্থলে নিয়ে আসা হয়। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চের বটতলায় কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তি ও সংগঠন। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে এখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অসীম কুমার উকিল, আফজাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সায়েম খান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও সচিব মো. বদরুল আরেফীনের নেতৃত্বে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলা একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এ এইচ এম লোকমানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় প্রয়াত হাবীবুল্লাহ সিরাজীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ, নির্মল রঞ্জন গুহ ও আফজাল বাবুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, গোলাম কুদ্দুছের নেতৃত্বে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, তারিক সুজাত, হারিসুল হক, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সহসভাপতি খান মাহবুব, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন, আল নাহিয়ান খান জয় ও সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে রাইটার্স ক্লাব বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ, ছোটকাগজ শালুক, মাহবুবুল হক শাকিল সংসদ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, রেজানুর রহমান, হুমায়ুন কবীর ঢালী, শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন প্রমুখ।

এদিকে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি ও লেখক এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রমুখ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘এই করোনার সঙ্গে যুদ্ধে আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।’ হাবীবুল্লাহ সিরাজী সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন সফল মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। তিনি দক্ষতার মাধ্যমে বাংলা একাডেমির প্রশাসন পরিচালনা করেছেন। তার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কবি ড. মুহম্মদ সামাদ বলেন, তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

নাট্যাভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘করোনার এই দুঃসময়ে আমরা আমাদের প্রিয় মানুষদের হারাচ্ছি। তাদের মতো মানুষের চলে যাওয়া আমাদের সংস্কৃতি ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের কবি ও মানুষ।’

পদ্য-গদ্য মিলিয়ে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর গ্রন্থের সংখ্যা ৫০টির বেশি। কবিতার জন্য ২০১৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এছাড়া তিনি যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৭), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), বিষ্ণু দে পুরস্কার (২০০৭), রূপসী বাংলা পুরস্কার (২০১০), মহাদিগন্ত পুরস্কারসহ (২০১১) বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেন।