শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা

দণ্ডিত সাত জনের জামিন হাইকোর্টে

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ২২:৩৫

সাতক্ষীরায় তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের দায়েরকৃত আপিল চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন :আব্দুস সামাদ, গোলাম রসুল, আবদুস সাত্তার, জহুরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মো. মনিরুল ইসলাম। বিচারিক আদালতে আসামিদের মধ্যে আবদুস সাত্তার ও আব্দুস সামাদের চার বছর এবং বাকি পাঁচ আসামির চার বছর করে দণ্ড হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা। ঐ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তখন তা নেওয়া হয়নি। এক যুগ পর ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে নালিশি মামলা করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ মে বিএনপির তত্কালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

এর মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক আদালত সব আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়। এই দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে ১৮ জন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পক্ষে মাহবুব উদ্দিন খোকন, শাহানারা পারভীন ও গাজী মহসীন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাত জনের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকিদের বিষয়ে আজ আদেশ দেবে আদালত।

জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। তিনি বলেন, যাদের জামিন দেওয়া হয়েছে তা আইনত ঠিক হয়নি। রায়ের দুই মাসের ব্যবধানে তাদের জামিন দেওয়ার বৈধ কারণ আছে বলে মনে করি না।