ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন বাবা। ছেলে গোলাম রব্বানীকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে তাদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন বাবা ফরিদুল ইসলাম (৪৫)। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে এ নির্মম ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফরিদুল জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী মেলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার জোয়াত আলীর ছেলে।
বাবা ছেলে মিলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির খাজনা দিতে গেলে কামাল হোসেনসহ একদল যুবক ফরিদুল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানীকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। এ সময় ফরিদুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাকেও বেদম মারপিট করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। ফরিদুলের ছেলে গোলাম রব্বানীও গুরুতর আহতাবস্থায় বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, ‘ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক মাস আগে টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী মেলাপাড়া এলাকার সিদ্দিক হোসেনের ছেলে সুজনের (১৮) সঙ্গে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বসুনিয়াপাড়ার লিটন ইসলামের ছেলে কামাল হোসেনের (১৭) কথা কাটাকাটি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সুজনের প্রতিবেশী টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী মেলাপাড়া এলাকার ফরিদুল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানি (২০) সুজন ও কামাল হোসেনের দ্বন্দ্ব নিরসনে (টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের বৈসালুপাড়ায়) বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে কামাল হোসেন সমঝোতায় না এসে উল্টো গোলাম রব্বানির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। বৈঠক অমিমাংসিত থেকে গেলে উভয়পক্ষ বাড়ি ফিরে যায়।’’
তিনি আরও জানান, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাম রব্বানি তার বাবা ফরিদুল ইসলামসহ জমির খাজনা দেওয়ার জন্য টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে সেখানে কামাল হোসেন তার লোকজন নিয়ে গোলাম রব্বানির ওপর হামলা করে। এ সময় ছেলেকে প্রতিপক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে। স্থানীয়রা ফরিদুল ইসলাম ও তার পুত্র গোলাম রব্বানীকে উদ্বার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদুল মারা যান।’
নিহত ফরিদুলের বড় ভাই আব্দুস সাত্তার অবিলম্বে আমার ভাইয়ের হত্যাকারী কামালসহ জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিপক্ষ কামাল হোসেন গংরা পলাতক থাকায় তাদের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. অর্জুন সাহা জানান, ‘রোগীর বর্ণনা শুনে মারামারির স্বাভাবিক যে চিদিৎসা দেওয়া হয় তা দেয়া হয়েছিল। ফরিদুল ইসলামের বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহৃ ছিল না। এজন্য আমরা রোগীকে ইসিজি ও এক্সরে করার জন্য বলেছিলাম। চিকিৎসা শুরুর আধা ঘন্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।’
টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সরকার জানান, ‘খাজনা দিতে ভূমি অফিসে বাবা ছেলে আসলে পূর্বের ঝগড়া বিবাদের জের ধরে কামাল হোসেনসহ ২৫/৩০ জনের একদল যুবক ফরিদুলের ছেলেকে মারপিট শুরু করে। এ সময় তার বাবা মারপিট ঠেকাতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারপিট করে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ভর্তির আধাঘন্টা পর ফরিদুল মারা যায়।’
আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইলেন মেধাবী ছাত্রী অনন্যার পরিবার
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হাসান সরকার জানান, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনাটি ঘটে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
