রহমত মিয়া
স্পোর্টস রিপোর্টার
ফুটবল দলের যে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বললে তাদের কণ্ঠে হতাশার সুর। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে কাতারে যেতে চেয়েছিলেন জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে এবং তার ফুটবলাররা। কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেঙে যাওয়ায় এখন খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই।
আজকে শেখ জামালের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ফুটবল দল। এটাই প্রস্তুতির একমাত্র পুঁজি। তার পরই কাতার চলে যাবেন খেলোয়াড়রা। ৩ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দোহায়।
রহমত মিয়া বলছিলেন কোনো বড় দলের বিপক্ষে বা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো।’ ডিফেন্ডার রহমত মিয়া মনে করেন অনুশীলন ম্যাচটা আরো কঠিন কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হলে নিজেদের ভুলগুলো দেখে নেওয়া যেত।’ তার কথায় অবশ্য যুক্তি আছে। রহমত মিয়া বলেন, ‘আমরা যদি মূল ম্যাচে গিয়ে ভুল খুঁজে পাই তাহলে তখন আর শোধরানোর সুযোগ থাকবে না।’
বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে রহমত মিয়া বলেছেন, ‘এতোদিন কোচ আক্রমণভাগ নিয়ে কাজ করেছেন। আজকে (গতকাল) আমাদের ডিফেন্ডিং শেপটা কী হওয়া উচিত, বিশেষ করে কর্ণার কিক, থ্রো ইন, আমরা যখন বল মিস করব তখন আমাদের শেপটা কী হওয়া উচিত। এগুলো নিয়ে কাজ করেছেন।’
প্রতিপক্ষরা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ফেলছে। কিন্তু আমরা এখনো প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনাই করছি। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন? রহমত মিয়ার উত্তর, ‘আসলে প্রস্তুতিটা যে যেভাবে পারছে নিচ্ছে। আমরাও যদি সৌদি আরব যেয়ে প্রীতি ম্যাচটি খেলে প্রস্তুতি নিতে পারতাম তাহলে সেটাও আমাদের দলের জন্য ভালো হতো। কারণ, শুধু অনুশীলন করে যদি আপনি কোনো প্রতিযোগিতায় ম্যাচ খেলতে যান তাহলে আপনার ভুলগুলো মূল ম্যাচেই দেখা দিবে। তার চেয়ে ভালো হয়, আপনি যদি কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন তাহলে আগেই বের করা যাবে যে আমাদের কী করা উচিত বা কী করতে হবে। তাই এই দিক থেকে আমি মনে করি আমাদের বড় দলগুলোর সঙ্গে কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, তাহলে আমাদের ভুলগুলো আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারতাম।’
শেখ জামালের বিপক্ষে ম্যাচটি কতোটা কাজে লাগবে ?
রহমত মিয়া বললেন, ‘ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ফ্রেন্ডলি ম্যাচই। এখানে কোন টিম প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে, ফলাফল কী হলো সেটা বিষয় না। আমরা আমাদের ভুলগুলো আমরা কীভাবে শুধরাতে পারব, কীভাবে আরো ভালো করতে পারব সেটাই এখন প্রধান বিষয়।’
প্রতিপক্ষদের তুলনায় বাংলাদেশ একটু ব্যাকফুটেই আছে। সেই অবস্থায় বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে ডিফেন্ডারদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে যে, কত কম গোল রিসিভ করা যায়। অনুশীলনে এটা কি একটা চাপ কিনা ডিফেন্ডারদের ওপর?
রহমত জবাব দিলেন, ‘প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টের আগে বা প্রত্যেকটা খেলার আগে একটা প্রতিকূলতা কাজ করে। এখন যত প্রতিকূলতা আসুক না কেন আমাদের এক জন খেলোয়াড় হিসেবে একটা লক্ষ্য থাকে যে, আমরা একটি ক্লিনশীট রাখার চেষ্টা করব বা যত কম গোল হজম করে জিততে পারি। এগুলোই আমাদের জন্য ভালো। তাই এক জন খেলোয়াড় হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের এরকম সব ব্যক্তিগতভাবে ঠিক করা উচিত।’
