করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী মহানগরী

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ২০:৪৩

কঠোর লকডাউনের দাবি

আনিসুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা রাজশাহী মহানগরী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বুধবার প্রাপ্ত ফলাফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২১২ নমুনায় ১৩১ জনের এবং রাজশাহীর ২৩৫ নমুনায় ৫১ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ হয়েছে। উভয় জেলার আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ চিকিত্সা নিচ্ছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।

এদিকে রাজশাহী মহানগরীতে বসবাসকারী প্রায় অর্ধেক মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিবাসী। চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউন ঘোষণার পরই সেখানকার বহু মানুষ রাতের আঁধারে রাজশাহী মহানগরীতে এসে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে আসছেন। মঙ্গলবার রাতে কয়েক শ মানুষকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। ফলে রাজশাহী মহানগরীও করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই রাজশাহীতেও কঠোর লকডাউনের দাবি উঠেছে। ফেসবুকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও রাজশাহীর সিভিল সার্জন সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাজশাহীতে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন। 

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, গতকাল বুধবার এই হাসপাতালের আইসিইউসহ করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন ছিল ১৬২ জন রোগী। এদের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি ১৪ জন। এদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ করোনা আক্রান্ত রোগী। এদের ১৫ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, ১০ রাজশাহীর, অপর পাঁচ জন নওগাঁ ও নাটোরের। তিনি আরো জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন তিন জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুই জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, একজন রাজশাহীর। এ নিয়ে ১লা মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৭৪ করোনা আক্রান্ত রোগী ও ১১২ জন করোনার উপসর্গে মারা গেছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, করোনার প্রথম ধাপে এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ করোনার রোগী ছিলেন ৯৬ জন। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে সর্বোচ্চ রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ জনে। ঈদের আগে রোগী কমে হয়েছিল ৭১ জন। কিন্তু ঈদের পর থেকে করোনা রোগী বাড়ছেই। যা এক দিনে ১৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ঈদের পরে আগত রোগীদের বেশির ভাগই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি বলেন, বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা শনাক্তের হার ৬২ ভাগ এবং রাজশাহীতে ২২ ভাগ। করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিত্সায় হাসপাতালে আরো একটি ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পাঁঁচটি ওয়ার্ডে তাদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আরো একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার মধ্যরাত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত দিনব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। রাজশাহীতেও লকডাউন অথবা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। করোনার ভারতীয় ধরন পরীক্ষায় ৪৩ জনের নমুনা আইইডিসিআরএ পাঠানো হয়েছে। ঐসব নমুনার ফলাফল পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো মানুষ রাজশাহীতে আসবে না। রাজশাহীর কেউ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেতে পারবে না। এছাড়াও করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে। এর পরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।