ঢাবি শিক্ষার্থী হাফিজুরের মৃত্যু তদন্তে নতুন মাদক এলএসডি’র সন্ধান

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ১৯:০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ নতুন মাদক এলএসডি’র (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) সন্ধান পেয়েছে। পুলিশের ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ জানিয়েছে দেশে এলএসডি জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম।

ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ জানায়, এলএসডি মাদক বিক্রির অভিযোগে হাফিজুরের ৩ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ মে) রাতে রাজধানী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার হাফিজুরের ৩ বন্ধু হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুপল ও তুর্জ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র আদিব।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ আক্তার বলেন, অভিযান চালিয়ে তাদের বাসা থেকে ২০০ টি ব্লট এলএসডি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লট এলএসডি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি। এই মাদকটি খুবই ছোট আকারের। এটি অল্প মাত্রায় থাকে। এটি গ্রহণের পর সেবনকারী চিন্তাশক্তি অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। নিজেকে অনেক শক্তিমান মনে হয়। অন্যজগতে চলে যায়। কখনো কখনো সেবনকারীর হ্যালোসেনিক মনে হয়, এই মাদকটি গ্রহণের পর ৮ থেকে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত এর প্রভাব থাকে। এই মাদক বেশি মাত্রায় গ্রহণের ফলে হিংস্রতা বেড়ে যায়। অনেক সময় গ্রহণকারীর অতীত মনে পড়ে যায়, কখনো কখনো নিজেকে অতিমাত্রায় শক্তিশালী মনে করে। এটি সেবন করলে চোখের মনি বিকৃতি ঘটে, রক্ত চাপ ও শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডিপ্রেশন বেড়ে যায়। এই মাদককে বিশ্বের উন্নত দেশে নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে ধরা হয়।

এছাড়াও, এই মাদকগুলোর ছদ্মনাম MDMA, N, M-Dimethyltryptania, psilocybin mushroom সহ LSD-25, Acid, Delysid ইত্যাদি নামের হয়ে থাকে। সাধারণত এই মাদকের ভয়াবহতার কারণে এই মাদককে LSD (Last State of Drug) বলা হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘এই মাদক (এলএসডি) নেদারল্যান্ড থেকে দেশে আনা হয়। দেশে এই মাদক জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম। ফেসবুকের ২টি পেজে এই মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করা হতো। এর গ্রাহক বেশিরভাগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

এই মাদক উদ্ধারের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না সাংবাদিকদের  এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার বলেন, আমরা তদন্ত করছি। ফরেন্সিক এবং ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে আমার বিস্তারিত জানাবো।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাবি শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি। এই মাদকের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে কিনা বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছি। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।’

এর আগে নিখোঁজের ৯ দিন পর রবিবার (২৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের ঢামেক হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা তার লাশ খুঁজে পান। হাফিজুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মুকাভিনয় সংগঠন মাইম এ্যাকশানের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

ইত্তেফাক/এসজেড/কেএইচ