ফল

হাঁড়িভাঙ্গা আম

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ১৯:৫৫

বাংলাদেশের বিখ্যাত ও সুস্বাদু আম। শাঁস-আঁশ বিহীন এই আম স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। রংপুরের মিঠাপুকুরে হাড়িভাঙ্গা আমের আদি উত্পত্তি হলেও বর্তমানে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, পীরগাছা এবং পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, বদরগঞ্জের উপজেলার কিছু এলাকাতেও ব্যাপকভাবে উত্পাদন হচ্ছে। চাষের অনূকুল আবহাওয়া ও মাটির কারণে বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিকভাবে রংপুরের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা জেলার বেশকিছু এলাকায় এখন চাষ হচ্ছে এই আম।

আমটির নামকরণের ইতিহাসের পেছনে আছেন নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। শুরুতে এর নাম ছিল মালদিয়া। আমগাছটির নিচে তিনি মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে পানি দিতেন। একদিন রাতে কে বা কারা ঐ মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। ঐ গাছে বিপুল পরিমাণ আম ধরে। সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে লোকজন ঐ আম সমপর্কে জানতে চায়। তখন চাষি নফল উদ্দিন মানুষকে বলেন, যে গাছের নিচের হাঁড়িটা মানুষ ভাঙছিল সেই গাছেরই আম এগুলা।’ তখন থেকেই ঐ গাছটির আম ‘হাঁড়িভাঙ্গা’ নামে পরিচিতি পায়।

শুধু রংপুর জেলাতেই ১৬২৩ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হচ্ছে। আর এখানে এই আমের বাগানের সংখ্যা ৪৬৮৫টি এবং বসতবাড়িতে গাছের সংখ্যা ৪৭৩৩০০। প্রতি হেক্টরের গড় ফলন ১১ মেট্রিক টন। এবং আম চাষের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে।

গঠনগতভাবে আমের উপরিভাগ বেশি মোটা ও চওড়া, নিচের অংশ চিকন। দেখতে সুঠাম ও মাংসালো, শ্বাস গোলাকার ও একটু লম্বা। শ্বাস অনেক ছোট, আঁশ নেই। আকারের তুলনায় ওজনে বেশি, গড়ে তিনটি আমে এক কেজি হয়। কোনো ক্ষেত্রে একটি আম ৫০০ বা ৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে। চামড়া কুচকে যায় তবু পচে না। ছোট থেকে পাকা হওয়া পর্যন্ত একেক স্তরে একেক স্বাদ পাওয়া যায়।

এই আম থেকে চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, মোরব্বা, জ্যাম, জেলি ও জুস তৈরি হয়।

শাহ মুহাম্মদ আবদুল্ল­াহ