যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়া এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে সেসব শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য এসব কথা বলেন বলে দাবি করে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপি প্রদান শেষে উপাচার্যের অফিসের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ।
অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার দাবিতে এ স্মারকলিপি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, স্যারের কাছে আমরা ৫ জন প্রতিনিধি গিয়েছিলাম। স্যার আমাদের অপরাধীর মতো দাঁড় করিয়ে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মোবাইল এবং অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা কেন দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্ন ইব্রাহিম নাফিস ভাই স্যারকে করলে স্যার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে কথা বলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন এমনটি জানালে প্রতিবাদকারীদের স্যার মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ করছেন তাদের পরিবারকে হেয় করেও তিনি কথা বলেছেন। তাদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। যা সত্যিই অপমানজনক।
এদিকে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মো. আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তা হবে কেন। ওদের সাথে খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা হয়েছে। ছেলেগুলো খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথাগুলো বুঝতে পেরেছে। ওরাও খুবই যৌক্তিকভাবে তাদের কথাগুলো বলছে। তাদের কথাগুলো আমার ভালোই লাগলো।
তিনি আরও বলেন, ওদের সাথে কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য স্লোগান বাহিরে দিচ্ছিল। তাদের বললাম এগুলো লক্ষ্য রেখো। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা না। পারিবারিক শিক্ষা হতে পারে না।
এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান।
ইত্তেফাক/এসজেড
