চট্টগ্রামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে। জানা গেছে, দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের পরিবেশকরাই ডাকাতদের মূল টার্গেট। গত ১৫ দিনে এই গ্রুপের মোট পাঁচ জন পরিবেশকের গুদামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। ডাকাতরা লুট করে নিয়েছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। পুলিশ একটি ঘটনার কুলকিনারা করার আগেই আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ডবলমুরিং থানার পোস্তারপাড় এলাকায় খাজা ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি হয়েছে। অস্ত্রের মুখে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী এবং আশপাশের ভবনের কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সিগারেট লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়েছে।
খাজা ট্রেডার্সের মালিক এস এম ই হোসাইন পারভেজ ইত্তেফাককে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ১০ থেকে ১২ সশস্ত্র ডাকাত গুদামের তালা ভেঙে ৯৪ কার্টন মেরিস সিগারেট নিয়ে গেছে। যার দাম ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ডাকাতরা ট্রাক নিয়ে এসেছিল। তারা আমার অফিসের স্টোরকিপার শাহ আলমসহ আশপাশের ভবনের তিন জন নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। পরে মালামাল ট্রাকে তুলে পালিয়ে যায়।
এস এম ই হোসাইন পারভেজ আরো বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির আগে গত ১৫ দিনে আবুল খায়ের গ্রুপের আরো চার ডিলারের প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি হয়েছে। জেলার সন্দ্বীপ ও সীতাকুন্ড উপজেলা এবং নগরীর কামালবাজার ও কাঠগড়ে চার জন ডিলারের গুদামে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনায় ১০ থেকে ১২ ডাকাত অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করতে এসেছে। ডিলাররা যেদিন গুদামে মাল তোলেন ঠিক সেদিন বা তার দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কিছুদিনের মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপের চার জন ডিলারের প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি হয়েছে। এটি আসলে সংঘবদ্ধ অপরাধ। আমাদের কাছে ইতিমধ্যেই কিছু তথ্য এসেছে। আশাকরি এই চক্রটাকে ধরে ফেলতে পারব।
