রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি
প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন পাবনা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। জনসংখ্যা এবং যানবাহন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলেও সে তুলনায় বাড়েনি শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়কের প্রশস্থতা। যদিও স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা আর ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে পথ চলা দায়। প্রতিদিন শহরের এডওয়ার্ড কলেজ মোড়, আলিয়া মাদ্রাসার সম্মুখভাগ, ট্রাফিক মোড়, ইন্দিরা মোড়, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড ও পোস্ট অফিস মোড়ে যানজটের অবস্থা দেখলে মনে হবে, দেখার কেউ নেই।
আবার এ সবের পাশাপাশি দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসে দোকানপাট। শহরের ট্রাফিক মোড় থেকে ইন্দিরাপট্টি পর্যন্ত রাস্তা, বড় বাজার রাস্তা, ট্রাফিক মোড় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত রাস্তা, নারিকেল বাগান রাস্তা, আতাইকুলা রাস্তার দুই পাশের ফুটপাথ দখল হয়ে গেছে। অল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও অভিযানের পরপরই বসে যায় দোকানপাট। মধ্য শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য বহুতল ভবনে অফিস আর মার্কেট গড়ে উঠলেও নেই গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা। অপ্রশস্ত এই প্রধান সড়কের একটি অংশ দখলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মোটরসাইকেল অবৈধ রিকশা আর অটোরিকশা।
পাবনা শহরের প্রধান সড়ক ‘আবদুল হামিদ সড়ক’। এই সড়ক দিয়ে পাবনা জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পুলিশ লাইন, আদালত, জেল খানা, হাসপাতাল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করতে হয় প্রতিনিয়ত হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে। কিন্তু যানজটের কারণে সড়কটি এখন দুর্ভোগের শহর হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভািগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা ইত্তেফাককে বললেন, যানজট নিরসনে মধ্য শহরের প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। এখন পৌরসভা যদি এই সড়কের দুই পাশের রাস্তা পরিকল্পনা করে বাই পাস রাস্তার ব্যবস্থা করে, তা হলে মধ্য শহরে কিছুটা যানজট কমতে পারে।
পাবনা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ইন্সপেক্টর মির্জা মো. রইচ উদ্দিন জানান, ২০০৮ সালে জেলা পৌরসভায় অটোবাইক চলাচল শুরু করে। সে সময় এর সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫টি। পরের বছর ২০০৯ সালে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৮টিতে। আর এখন অটোবাইকের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে পাবনা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ২৫০০ অটোবাইকের।
পাবনা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, পৌরবাসীকে যানজটের হাত থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে পৌর ট্রাফিকের মাধ্যমে পৌর কর্তৃপক্ষ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। অল্প দিনেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাবনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন এগিয়ে এলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যানজট নিরসন সম্ভব। এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে আগে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে প্রচেষ্টা করলে শহরে যানজট কমে যাবে।
