তদন্তের নির্দেশ
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
সবেমাত্র সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই ঐ সেতুর একাধিক স্থানে ফাটল ধরেছে। ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে হয়তো যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে পারে। নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এভাবেই সেতুটি ধসে পড়ার আশঙ্কার কথা বলেন স্থানীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের হারাকান্দি-কালাচাঁনকান্দি সংযোগ সড়কের মধ্যখানে খালের ওপর সোয়া ১৮ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে সম্প্রতি এ সেতুটি নির্মাণ করা হয় বলে জানা গেছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামও সেতুটির নির্মাণকাজে অনিয়ম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জেলার তিতাস উপজেলার হারাকান্দি-কালাচাঁনকান্দি সংযোগ সড়কের মধ্যখানে খালের ওপর ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৫ টাকা ব্যয়ে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ১৬ ফুট উচ্চতার (প্রকল্প নং-৬) সেতুটির নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়। কিন্তু নির্মাণের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আগেই এতে ফাটল ধরেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার স্থানীয় দুই জন ইউপি সদস্য বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসনে সেতুটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে উদ্বোধনের আগেই এর একাধিক স্থানে ফাটল ধরে ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়লে তড়িঘড়ি করে সেতুর ফাটলের অংশ সিমেন্ট-সুরকি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নবনির্মিত সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সেতুটি নির্মাণের গুণগতমান পরীক্ষাসহ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। তিতাস উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আহসান উল্লাহ জানান, সেতুটির খালের তলার অন্তত তিন ফুট নিচ থেকে বেইজ ঢালাই হয়েছে। উচ্চতা ঠিক আছে। এর অ্যাপ্রোচ অংশে মাটি ভরাটের সময় মাটি কাটা মেশিনের আঘাতে ফাটলের সৃষ্টি হলে তা মেরামত করা হয়েছে। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী সাংবাদিকদের বলেন, নবনির্মিত সেতুতে ফাটল ধরার বিষয়টি নজরে আসার পর সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সেতুটি সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। নির্মাণকাজ সঠিকভাবে করা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেতুটি নির্মাণকালে খালের তলায় পাঁচ ফুট গভীরে না গিয়ে দুই-তিন ফুট নিচ থেকে বেইজ ঢালাইয়ের কারণে উচ্চতা বেশি হওয়ায় এমনটি হতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
