আম বাজারজাত নিয়ে শঙ্কায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ২১:০৫

করোনার সংক্রমণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৫ মে থেকে সাত দিনের বিশেষ লকডাউন চলছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে গেলে গত বারের মতো এবারও জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম বাজারজাত নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ১০ দিনে জেলায় ৫২৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে আট জন। এছাড়া জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করৃোনা ওয়ার্ডে ২১ জন রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত দিনের বিশেষ লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আম আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে চলে আসবে। তবে করোনা সংকটে এই আম সারা দেশে বাজারজাত করা যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন জেলার বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। শিবগঞ্জের আমবাগান মালিক আব্দুল লতিফ ও নাজিম উদ্দিন জানান, গত বছর করোনা সংকটে লকডাউনের কারণে জেলার অর্থকরী ফসল আমের পরিচর্যা সঠিকভাবে না করায় এবং কীটনাশক ব্যবহার করতে না পারার কারণে দেশব্যাপী আম বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। এতে কোটি কোটি টাকার লোকসানের শিকার হন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে আম ব্যবসায়ীরা গত বারের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে এবার আমবাগানের ব্যাপক পরিচর্যা করেছেন। ফলে এবার জেলায় বিপুল পরিমাণ আম এসেছে, যা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে নামতে শুরু করবে।

কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, জেলার পাঁচ উপজেলায় এ বছর প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব আমবাগানে প্রায় ২৭ লাখ গাছ থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে করোনা সংকটের কারণে যদি আম এবারও বাজারজাত করা না যায় তাহলে বাগানমালিক, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের লোকসানে পড়বেন। এদিকে আম ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রাধান্য দিয়ে সারা দেশে তা বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ।

তিনি বলেন, ‘আমের সময় এই জেলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। তাই এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্য জেলার আম ব্যবসায়ীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আসবেন এবং আম স্বাচ্ছন্দ্যে অন্য জেলায় নিয়ে যাবেন। এজন্য জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’