বৈরী আবহাওয়া
পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা
প্রচণ্ড দাবদাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে ফেনী জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় পানির লেয়ার নিচে নেমে গেছে। ফলে এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট। পানি সংগ্রহে দূর-দূরান্তে ছুটছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকে পুকুর অথবা ডোবার অস্বাস্থ্যকর পানি নানা উপায়ে বিশুদ্ধ করে খাওয়ার পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে খাল ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে ফসলের চাষ নিয়ে সংকটে পড়েছেন চাষিরা। ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, পানির লেয়ারের কথা চিন্তা করে ভবিষ্যতে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলগাজী উপজেলার জি এম হাট ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বাড়ির নলকূপে মিলছে না খাওয়ার পানি। পানি উঠছে না ইউনিয়ন পরিষদের গভীর নলকূপেও। একই চিত্র দেখা যায় পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞা ও সদর উপজেলায়।
জি এম হাট বাজার ব্যবসায়ী এবাদ উল্যা, বদরুল আলম বাবলু ও দিদারুল আলম বলেন, গত চার-পাঁচ মাস ধরে আমরা কোনো টিউবওয়েলে পানি পাচ্ছি না। আমরা খাওয়ার পানির জন্য কষ্ট করছি। পুকুরের পানি ফিটকারীসহ বিভিন্ন উপায়ে পরিশোধন করে পান করছি।
জি এম হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এ এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ টিউবওয়েলে পানি নেই। খাল জলাশয়ে পানির অভাবে ফসলের বীজ নিয়ে সংকটে পড়েছেন চাষিরা। সরকারকে ভবিষ্যতে খরা মৌসুমের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা করা উচিত। ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবদুল আলিম বলেন, খাওয়ার পানির ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, অনেক এলাকায় গভীর নলকূপে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে আমাদের কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। গ্রামাঞ্চলে গভীরতা আরো একটু বাড়িয়ে দিতে হবে। শহরাঞ্চলে পাইপলাইন মাধ্যমে পানি সরবরাহের মাধ্যমে এই সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির বেশি ব্যবহার হচ্ছে। খাওয়া ও রান্নাবান্নার কাজে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করলেও গৃহস্থালি, শিল্প ও কৃষিকাজে অন্য কাজে এ পানি ব্যবহার না করা ভালো।
