করোনার প্রভাব
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুরের শুঁটকির আড়তে বেচাকেনায় করোনার প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করায় লোকসানে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। অনেকে পুঁজি হারিয়ে এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন। করোনাকালে ক্রেতা কমে যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তারা জানান, ১৯৮৩ সালে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নিয়ামতপুর এলাকায় গড়ে ওঠে এ শুঁটকি মাছের আড়ত। প্রথমে কয়েক জন আড়তদার এই ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে আড়তদার রয়েছে ১৭ জন। এর মধ্যে পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা ছেড়েছেন চার জন আড়তদার।
তারা আরো জানান, স্বাভাবিক সময়ে ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতা মিলে প্রতিদিন ১৫/১৬ হাজার লোকের আগমন ঘটত। এ সময় প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে কোটি টাকার শুঁটকি মাছ বেচাকেনা হতো। বর্তমানে করোনাকালে ক্রেতাদের ভিড় কমেছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১০/১৫ লাখ টাকার বেচাকেনা হচ্ছে।
মেসার্স বাহাউদ্দিন বাবলু আড়তের মালিক বাহাউদ্দিন বাবলু জানান, গত বছর দীর্ঘ বন্যা ও আবহাওয়ার কারণে শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ২৬ লাখ টাকার মতো লোকসান হয়েছে। এবছর এই লোকসান আরো বাড়বে বলে মনে করছেন। করোনাকালে ব্যবসায়ী ও খুচরা দোকানিরা খুব একটা না আসায় বেচাকেনা কমে গেছে। করোনাকালে কঠোর নির্দেশনা ও গণপরিবহন চলাচল কম থাকায় ব্যবসা চরম মন্দাভাব চলছে।
মেসার্স লাকী ট্রেডার্স আড়তের মালিক রবিউল ইসলাম (রবি) জানান, প্রতি বছর শুঁটকি ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ এই ব্যবসা আর আগের মতো চলছে না। আড়তে আসা খুচরা দোকানি আব্দুর রহমান জানান, এখানে পাইকারি দরে শুঁটকি কিনে গ্রামে গ্রামে খুচরা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন এনজিও কিস্তি আদায় করছেন কিন্তু নতুন করে ঋণ দিচ্ছে না। ফলে আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় পড়ে মালামাল কিনতে পারছি না।’ সৈয়দপুর শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাকার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন বেলো জানান, এখানকার সব আড়তদারই ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছেন। লোকজনের আনাগোনা কমে যাওয়ায় শুঁটকি ব্যবসা আগের মতো চলছে না।
