শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনে রেকর্ড

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ২১:৫৫

লকডাউনের মধ্যেও শেয়ারবাজারে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে। এই সময়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজার। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও ডিএসইর প্রধান সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৩৯ মাস পর ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ৫০ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় দুই মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকা শেয়ারবাজারে গতকাল লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। এতে লেনদেন শুরু হওয়ার প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ফলে ৬ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলে সূচকটি। তবে ৬ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করার পর তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। একের পর এক ব্যাংক পতনের            তালিকায় নাম লেখানোর কারণে সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। এমনকি ১০টা ২৮ মিনিটে ডিএসইর প্রধান সূচক ১ পয়েন্ট কমেও যায়।

গতকাল দিন শেষে আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে শেয়ারবাজার। লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে। প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো বাজার মূলধন গতকাল আরো উচ্চতায় উঠে এসেছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক দিনে বাজার মূলধন বেড়েছে ৭১৬ কোটি টাকা।

রেকর্ড বাজার মূলধন ও সূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনও হয়েছে বড় অঙ্কে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৪৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ২ হাজার ৩৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ২১৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রাইম ইনসিওরেন্সের ৮৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইফাদ অটোস।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষদশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এবি ব্যাংক, নর্দান ইসলামী ইনসিওরেন্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ওয়ান ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ৩১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১০৯ কোটি ২ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৩টির দাম কমেছে এবং ৩৯ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে শেয়ারবাজার ফিরছে স্বাভাবিক লেনদেনের সময়ে। আজ সোমবার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন সাড়ে ৪ ঘণ্টা (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২.৩০টা) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ সময় প্রি-ওপেনিং সেশন ৯টা ৪৫ থেকে ১০টা এবং পোস্ট ক্লোজিং সেশন আড়াইটা থেকে ২টা ৪৫ পর্যন্ত চালু থাকবে।