পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নে দুর্বৃত্তদের হামলায় ফরিদুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে লতিফুর রহমান বাবু নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত ফরিদুলের বাড়ি জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী মেলাপাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার জোয়াত আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বসুনিয়াপাড়ার লিটন ইসলামের ছেলে কামাল হোসেন (১৭)সহ ২৫/৩০ জন যুবক তুচ্ছ ঘটনায় টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে ফরিদুল ইসলাম ও তার ছেলে গোলাম রব্বানীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদুল মারা যান। গুরুতর আহত ফরিদুলের ছেলে গোলাম রব্বানী দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় এক মাস আগে টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী মেলাপাড়া এলাকার সিদ্দিক হোসেনের ছেলে সুজনের (১৮) সাথে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বসুনিয়াপাড়ার লিটন ইসলামের ছেলে কামাল হোসেনের (১৭) কথা কাটাকাটি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সুজনের প্রতিবেশী টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী মেলাপাড়া এলাকার ফরিদুল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানি (২০) সুজন ও কামাল হোসেনের দ্বন্দ্ব নিরসনে (টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের বৈসালুপাড়ায়) বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে কামাল হোসেন সমঝোতায় না এসে উল্টো গোলাম রব্বানির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। বৈঠক অমীমাংসিত থেকে গেলে উভয়পক্ষ বাড়ি ফিরে যায়।
আরো পড়ুন: চিকিৎসকের আত্মহত্যা: স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাম রব্বানি তার বাবা ফরিদুল ইসলামসহ জমির খাজনা দেওয়ার জন্য টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে সেখানে কামাল হোসেন তার লোকজন নিয়ে গোলাম রব্বানির উপর হামলা করে। এ সময় ছেলেকে প্রতিপক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. অর্জুন সাহা জানান, রোগীর বর্ণনা শুনে মারামারির স্বাভাবিক যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তা দেওয়া হয়েছিল। আমরা ফরিদুল ইসলামের ইসিজি ও এক্সরে করার জন্য বলেছিলাম। চিকিৎসা শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।
টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সরকার জানান, খাজনা দিতে ভূমি অফিসে বাবা ছেলে আসলে পূর্বের ঝগড়া বিবাদের জের ধরে কামাল হোসেনসহ ২৫/৩০ জনের একদল যুবক ফরিদুলের ছেলেকে মারপিট শুরু করে। এ সময় তার বাবা মারপিট ঠেকাতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারপিট করে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ভর্তির আধাঘণ্টা পর ফরিদুল মারা যায়।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হাসান সরকার জানান, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারপিটের এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত ফরিদুলের লাশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
