মীরাক্কেলে ৪ বাংলাদেশি তরুণ

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ২০:৪২

একজন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানের জন্য সেরা একটা মঞ্চ বললে ভুল হবে না মীরাক্কেলকে। যে অনুষ্ঠান দেখতে বসে দর্শক হাসতে পারে বিনে পয়সায়। মীর আফসার আলি— এ নাম থেকেই ‘মীরাক্কেল’র সৃষ্টি। তিনিই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। উপস্থাপনায় কারিশমা দেখিয়ে দর্শকদের প্রিয় হয়ে উঠছেন দুই বাংলায়। ভিন্ন ধরনের এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ২০০৬ সালে প্রথম সিজন শুরু হয় জি বাংলার পর্দায়। ৫ম আসরে বাংলাদেশের কমেডিয়ানরা প্রথম অংশগ্রহণ করেন। তার পরের আসরে আসে বাংলাদেশের প্রথম অর্জন; সে আসরে দর্শক ভোটে মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার্স ৬-এ বিজয়ীর মুকুট মাথায় তুলেন নাটোরের সন্তান আবু হেনা রনি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি আসরেই বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে আসছে মীরাক্কেলে। এ নিয়ে লিখেছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত

আবিদুল ইসলাম রিমন

ছোটবেলায় পত্রিকার রম্য পাতায় লেখালেখি করতেন। সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিং বিভাগে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। রম্য লেখার সুবাদেই কমেডিতে আগ্রহ চলে আসে। কমেডিয়ান হবেন—এই লক্ষ্য ঠিক হয় মীরাক্কেলের ষষ্ঠ আসরে চ্যাম্পিয়ন আবু হেনা রনিকে দেখে। তার পরামর্শে স্ট্যান্ড আপ কমেডি সিরিয়াস ভাবে শুরু করেন রিমন। ‘হিংসে হয়?’ নামে ২০১৯ সালে রম্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয় রিমনের। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ঘরের মানুষদের হাসানোর চেষ্টা করলাম। তারপর বন্ধুুদের হাসানো শুরু করলাম। আসলে মানুষ হাসানো সবাই বলে কঠিন। তবে আমি বলি সহজ।’ মীরাক্কেলের বিশেষ স্মৃতি জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘মীরাক্কেলের মঞ্চে বাংলাদেশের আগমন। এইরকম একটা স্লোগান দিয়ে জি বাংলা আমার একটা প্রমো করে। টিভিতে সেটা বার বার দেখায়। যেটা ছিল মীরাক্কেল ১০-এ বাংলাদেশের কোনো প্রতিযোগীকে নিয়ে প্রথম বিজ্ঞাপন। টিভিতে সেটা দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। সেই স্মৃতি কখনো ভুলব না। তবে প্রাপ্তির চেয়ে বেশী কী পেয়েছেন যদি বলেন— তাহলে বলব, মানুষের ভালোবাসা। মীরাক্কেলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন রিয়েলিটি শো’তে কাজ করার ইচ্ছে আছে।’

আফনান আহমেদ রাশেদ

বর্তমানে পড়াশোনা করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফর্মিং আর্টসে থিয়েটার বিভাগে। নারায়ণগঞ্জের ছেলে রাশেদ। ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ ছিল। স্ট্যান্ড আপ কমেডি চর্চার প্রতি রাশেদের আগ্রহ তৈরি হয় জি বাংলায় মীরাক্কেল দেখেই। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সজল, রনিদের পারফরম্যান্স দেখে মীরাক্কেলে আসক্ত হয়ে পড়ে রাশেদ। জোকস ও রম্য গল্প পড়া শুরু করে রাশেদ। তিনি জানান, তার কাছে মনে হয় মানুষ হাসানো আসলেই একটা ম্যাজিক। যে কোনো মুহূর্তে কথার মাধ্যমে হাসানো সত্যিই দারুণ ব্যাপার। তাই মানুষ এটাকে উপভোগ করে।

মীরাক্কেলের দশম আসরে রাশেদের জার্নিটা সম্পূর্ণ নাটকীয়। তিন ধাপে অডিশন দেওয়ার পর ভারতে যাওয়ার জন্য জানানো হয় রাশেদকে। মীরাক্কেলে কার্নিভাল ছিল রাশেদের পছন্দের রাইন্ড। রাশেদ জানান, মীরাক্কেলে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—আমি একজন মীরাক্কেলীয়ান।

জিসান আহমেদ

বর্তমানে পড়াশোনা করছেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র সাংবাদিকতা বিভাগে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন অভিনেতা হওয়ার। বড় বোন এবং মায়ের তাগিদে অডিশন দিতে যাওয়া। বিশেষ করে বড় বোন। মীরাক্কেল ১০ জিসানের জীবনে প্রথম স্টেজ। জিসান বলেন, ‘মুখস্ত করে দুটো জোক শুনিয়ে হাসানোর পাবলিক আমি ছিলাম না কখনো। আর অভিজ্ঞতার অবস্থান থেকে এককথায় বলব—দুর্দান্ত। আমি যেহেতু নতুন ছিলাম। আমার কাছে সবকিছুই ছিল শিক্ষা। কিছু ভক্ত বাদে মীরাক্কেল থেকে বড় পাওয়া ওদেশের কিছু ভাই এবং বন্ধু। অডিশন থেকে  থেকে পাওয়া ভয়, বাধা—শেষ অব্দি আত্মবিশ্বাস সবকিছুই দূর করে দেয়। মীরাক্কেলের সেরা মুহূর্ত— যখন মীরদা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘অনেক বড় অভিনেতা তুই’। মীরদাকে প্রথম জড়িয়ে ধরাটাও একটা সেরা মুহূর্ত। আমি সবসময়ই নতুন কিছু শিখেছি। আমার কাছে মনে হয় এখনো আমি কমেডির কিছুই জানি না।’

 

তৌফিক এলাহী আনছারী উচ্ছ্বাস

ছোটবেলা থেকেই মানুষকে হাসানোর চেষ্টা করতেন। বর্তমানে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়ন করছেন উচ্ছ্বাস। মীরাক্কেলের দশম আসরে দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন। নিজেকে সম্পূর্ণ কমেডিয়ান বলতে নারাজ উচ্ছ্বাস। তিনি বলেন, ‘মানুষকে হাসাতে ভালো লাগে, তাই কথা বলে লোক হাসাতে চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে বাবা আমার অনুপ্রেরণা। মীরাক্কেলের অডিশন বাবার বলা জোক বলেই নির্বাচিত হয়েছি। প্রথম পর্বে বাবার দেওয়া জোকটাই সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমার মীরাক্কেল জার্নি খুবই দারুণ ছিল। অডিশন থেকে ধরলে প্রায় ২ বছরের জার্নি। করোনার কারণে আমরা ২০২০ সালের মার্চে দেশে চলে আসি। মীরাক্কেল শুরু হয় অক্টোবরে। এভাবেই পথ চলা শুরু হয়। একদিন হঠাত্ ফাইনাল চলে আসে। সেদিন সবাই খুব কাঁদে। চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বলে নয়— একে অন্যকে ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। একে অপরে আমরা যে এত আপন ছিলাম বুঝতে পারিনি।  মীরাক্কেলে গিয়ে প্রাপ্তি হলো ফাইনালে পারফর্ম করা। লোক হাসানো হলো আমার কাছে নেশার মতো। ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে বাংলায় স্ট্যান্ড আপ কমেডি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে।’