বিভিন্ন স্থানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ২১:০১

সিলেট ও নওগাঁয় ছয় জনের মৃত্যু

ইত্তেফাক ডেস্ক

বিভিন্ন স্থানে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেট ও নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

সিলেট : সিলেট বিভাগে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুও। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাত্ সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আরো তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা সিলেট জেলার বাসিন্দা। আর আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জন। যার মধ্যে ৬৩ জনই সিলেটের। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের চারটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৬৩ জন, সুনামগঞ্জের দুই জন, হবিগঞ্জের ছয় জন, মৌলভীবাজারের একজন এবং সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

নওগাঁ : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যু নওগাঁয় এক দিনে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৬৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এ মোর্শেদ এসব জানিয়ে বলেন, জেলায় ইতিপূর্বে এক দিনে এত সংখ্যক আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

দিনাজপুর : দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। দিনাজপুরের হিলিতেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিনাজপুরে করোনা শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ থাকলেও সোমবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ শতাংশে। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, সীমান্তবর্তী এ জেলায় করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যশোর: যশোরে করোনা পরিস্থিতি গত দুই দিনে হঠাত্ জটিল আকার ধারণ করেছে। দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে অপেক্ষমাণ শত শত চালক ও হেলপারের স্থানীয় লোকালয়ে অবাধ বিচরণের মধ্য দিয়ে জেলার পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম বলেন, লকডাউন দেওয়ার বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে দেশের যেকোনো সীমান্ত জেলার তুলনায় পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশের নাগরিকরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন। ২৬ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ জন বাংলাদেশের নাগরিক বেনাপোলে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এদের মধ্যে বড় একটি অংশকে যশোর ও বেনাপোলের ২৯টি হোটেল, ঝিকরগাছার গাজীর দরগা মাদ্রাসা ও যশোর পিটিআইয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। বাকিদের অন্যান্য জেলার কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চিকিত্সকের পরামর্শে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সার জন্যও পাঠানো হয়েছে কয়েক জনকে। ৩১ মের পরীক্ষায় যশোরের ২৮৯ জনের মধ্যে ৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. সাকিবুর রহমান জানান, সোমবার পর্যন্ত গোপালগঞ্জে করোনায় ৩ হাজার ৮৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

জয়পুরহাট :জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা করোনা মোকাবিলা কমিটির জরুরি সভা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী জেলার বর্তমান করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, গত এক সপ্তাহে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৩ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সভায় খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নোয়াখালী :নোয়াখালীতে অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনায় আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৪৩ জন। সংক্রমণ রোধে রবি ও সোমবার স্বাস্থ্যবিভাগ জেলা শহর মাইজদী তথা নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার ১৮টি বাসাবাড়ি লকডাউন করে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৪ জনের নমুনার পরীক্ষায় ১০১ জনের পজিটিভ হয়। আক্রান্তের মধ্যে জেলা সদরেরই ৬১ জন।