একশ’ টাকার টিকেটে একজন প্রযোজক পান মাত্র দশ টাকা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৫

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে মহাসচিব পদে বদিউল আলম খোকন নির্বাচিত হয়েছেন। পুনরায়  সমিতির দায়িত্ব পালনে শপথ নেবেন আগামীকাল। পরিচালক সমিতির নতুন পরিকল্পনা ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু

নতুন করে আবারো চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আপনি। সমিতির নতুন কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি-না?

এখন পর্যন্ত আমাদের নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই। পুরোনো কিছু পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সেগুলো নতুন করে আবারো শুরু করবো। কারণ বিগত সময়ে বিভিন্ন কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আমরা এগুতে পারিনি।

এগুতে না পারার কারণ?

কারণ এর আগে যিনি মন্ত্রণালয়ে ছিলেন তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দি ছিলেন। তিনি যা কিছু করেছেন তার ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য করেছেন।

সেই পরিকল্পনাগুলো কী ছিল?

প্রথমত, আমাদের হলগুলো ঠিক করা। কারণ আমাদের হল না বাঁচলে সেখানে ছবি প্রদর্শন করা সম্ভব না। সরকারি পদক্ষেপে হলগুলোতে মেশিন বসানো হবে। এ নিয়ে আমরা বর্তমান মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। তার সাথে আমরা বসবো। আগামীকাল আমরা শপথ নেবো। এরপর আমরা বিষয়গুলো নিয়ে বসবো। আরো একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রযোজকদের হল থেকে টাকা উঠে আসা। একশ’ টাকার টিকেটে একজন প্রযোজক পান মাত্র দশ টাকা। এখানে একটি অনিয়ম রয়েছে। অনেক নতুন প্রযোজক ছবি নির্মাণ করতে এসে একটি ছবি নির্মাণের পর তিনি আর কোনো ছবি করেন না। এতে শুধু তিনিই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন না, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিও হচ্ছে। কারণ আমাদের নতুন প্রযোজক প্রয়োজন। তারা ব্যবসা করতে পারলে আবারো ছবি নির্মাণ করবে। এতে করে ছবির সংখ্যাও বাড়বে। প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি ও শিল্পী সমিতির সবাই একসাথে আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রীর সাথে বসবো।

সাফটা চুক্তি ও যৌথ প্রযোজনা নিয়ে পরিচালক সমিতি থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন করে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি-না?

এই সমস্যাগুলো এখন অনেকটা কমেছে। এগুলো নিয়ে আমরা আবারো কাজ করবো। তবে সবার আগে যেগুলো কথা আমি বললাম সেগুলো ঠিক করা প্রয়োজন। কারণ আমাদের হল আর প্রযোজক বাঁচলে ছবিও বাঁচবে।

গত মাসে হলে কোনো নতুন ছবি নেই। পুরোনো ছবি দিয়ে হল চালাতে হচ্ছে। এই কারণগুলোও কি হল আর প্রযোজকের অভাব মনে করেন?

অনেকটা একই সমস্যা। এছাড়া গত মাস নির্বাচনের পরবর্তী সময় ছিল। এটাও একটা কারণ।

এবার যারা পরিচালক সমিতির নির্বাচন করেছেন তাদের বেশিরভাগের গত কয়েক বছরে কোনো নতুন ছবি নেই। আবার অনেকের ক্যারিয়ারে ছবির সংখ্যা একটি। তাদের মূল দায়িত্বের জায়গাটা ঠিক আছে মনে করেন?

এক সময় একটি ছবি দিয়ে সমিতির সদস্যা হওয়া যেত। তবে এখন ৩টি ছবি সেন্সর হলে সমিতির সদস্য হতে হয়। আর দায়িত্ববোধের বিষয় হলো, তারা যখন পেরেছে ছবি নির্মাণ করেছেন, এখন হয়তো অনেকে করতে পারছেন না। সমিতিতে থেকে সমিতির প্রতি দায়িত্ববোধটা রক্ষা করা জরুরি।