ভূমিকম্প মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের প্রতি এক নীরব সতর্কবাণী। আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি সব সময়ই সহনশীল। তবে আল্লাহ তায়ালার নেজাম হলো, বান্দাহ যখন রবের নাফরমানিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন আল্লাহ তার আজাবের খানিকটুকু ইঙ্গিত দেন। বান্দার প্রতি রবের অগাধ ভালোবাসার কারণেই এই ইঙ্গিত দেন। না হয় আল্লাহ চাইলে পারতেন আমাদের মন্দ কৃতকর্মের জন্য কোনো রকমের ইঙ্গিত ছাড়াই আমাদের ধ্বংস করে দিতে। কিন্তু আল্লাহ সেটা করেন না। কারণ আল্লাহ আমাদের অনেক ভালোবাসেন।
পূর্ববর্তী নবিদের অনুসারীদের ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে আমরা দেখতে পাই, তাদের মন্দ কৃতকর্মের জন্য আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দিয়ে দিতেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আমি কওমে আদ ও কওমে সামুদ এবং কওমে লুত ও মাদায়েন সম্প্রদায়ের অবাধ্যতার জন্য তাদের ওপর গজব অবতীর্ণ করেছি। আদ জাতির নবি ছিলেন হজরত হুদ (আ)। সামুদ জাতির নবি ছিলেন হজরত সালেহ (আ)। কওমে লুতের নবি ছিলেন হজরত লুত (আ)। এবং মাদায়েনের নবি ছিলেন হজরত শোয়াইব (আ)। আদ জাতিকে আজাব দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে মূর্তিপূজা পরিত্যাগ না করার কারণে। সামুদ জাতিকে ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে আল্লাহর নিদর্শন বিশেষ একটি উট হত্যা করার কারণে। কওমে লুতকে ভূখণ্ড উলটে পাথরবৃষ্টির দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে সমকামিতার কারণে। মাদায়েন জাতিকেও ভূমিকম্প দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের গুরুতর কয়েকটি অপরাধ হলো এক আল্লাহর আনুগত্য না করা, মাপে কম দেওয়া, সম্পদ আত্মসাত্ করা, মানুষকে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া। (সুরা আরাফ, ৬৫-৮৭)। আমাদের নাফরমানি বা অবাধ্যতার কারণে যদি অন্যান্য নবির অনুসারীদের মতো আমাদের শাস্তি দেয়া হতো, তাহলে আমরা স্বীয় মন্দ কৃতকর্মের জন্য অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেতাম। প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতদের এরকম গজব দিয়ে শাস্তি না দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। প্রিয় নবির দোয়ার অসিলায় আমরা এখনো ধ্বংস হইনি।
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় উম্মতের জন্য তিনটি দোয়া করেছেন। (১). হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে অন্যান্য উম্মতের ন্যায় কোনো জন্তুতে (পশু) পরিণত কোরো না। আল্লাহ তাআলা এ দোয়া কবুল করেছেন। (২). হে আল্লাহ! অন্যান্য উম্মতের ন্যায় আমার উম্মতকে সম্পূর্ণ ধ্বংস কোরো না। আল্লাহ তাআলা এ দোয়াও কবুল করেছেন। (৩). হে আল্লাহ! আমার উম্মতের মধ্যে যেন খুন-খারাবি না হয়, আল্লাহ তাআলা এ দোয়া কবুল করেননি। (তাফসিরে নুরুল কুরআন)। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়া থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা তার দোয়ার অসিলায় আমাদের আকৃতি পরিবর্তনসহ দুনিয়ার কঠোর শাস্তি থেকে নাজাত দিয়েছেন।
আমরা যে ভূমিকম্পের সম্মুখীন হই, এটাও আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের নাফরমানির একধরনের শাস্তি। তাছাড়া ঘনঘন ভূমিকম্প কিয়ামতের নিদর্শনও। হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবি করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘শেষ যমানার উম্মতের মধ্যে ভূমিধ্বস, রূপবিকৃতি ও পাথর বর্ষণের শাস্তি আবর্তিত হবে। বললাম, সত্ মানুষ থাকতেও আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? নবিজি (স) বললেন, অপরাধ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা-ই হবে।’ (তিরমিযি-২১৮৫)।
lলেখক :আলেম, প্রাবন্ধিক
