পাঁচ বছর বয়সী রায়ান রশিদ মুগ্ধ। মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে দাবা খেলায়। মুগ্ধর বয়স যখন মাত্র সাড়ে তিন বছর তখন থেকেই দাবা খেলায় ছিল প্রবল আগ্রহ। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মুগ্ধর বাবা মাহবুবুর রশিদ বাবুল অনলাইনে বিভিন্ন দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নিতেন। বাবার দাবা খেলা দেখেই আগ্রহী হয়ে ওঠে মুগ্ধ। তখনো মুগ্ধকে কেউ দাবার কোনো নিয়মকানুন সম্পর্কে শেখায়নি। পরে মুগ্ধর আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্ব দেয় তার পরিবার।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু না হলেও দাবাচর্চার জন্য মুগ্ধ এলিগ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল চেস অ্যাকাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে দাবা বিষয়ক পাঠ গ্রহণ করছে। শিক্ষাজীবনে পা দিলেও দাবা মুগ্ধর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। করোনা মহামারিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও থেমে নেই মুগ্ধ। আন্তর্জাতিক মাস্টার এবং জাতীয় দাবা প্রশিক্ষক আবু সুফিয়ান শাকিলের কাছে চলছে তার প্রশিক্ষণ নেওয়া।
এলিগ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল চেস অ্যাকাডেমি কর্তৃক আয়োজিত নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতে চলছে খুদে দাবাড়ু মুগ্ধ। মাত্র চার বছর বয়সে ভারতে আয়োজিত গ্লোবাল অনুর্ধ্ব ৯ অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে জায়গা করে নেয় সে। বিশ্বের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসাবে অনুর্ধ্ব ১৪ দলে অংশ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে এবং দলটি ১১তম স্থান অর্জন করেছিল ঐ প্রতিযোগিতায়। সম্প্রতি এলিগ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল চেস অ্যাকাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ক্লাসিক্যাল ও ব্লিটজ টুর্নামেন্ট অনুর্ধ্ব ১০ ক্যাটাগরিতে ‘বেস্ট বয়’ পদক জেতে সে। এক টুর্নামেন্টে মুগ্ধ তার বাবাকে হারিয়ে জয়ী হয়ে সবাইকে অবাক করেছিল। বিশ্ব রেকর্ড গড়ে মুগ্ধ সবশেষ মুগ্ধতা ছড়ায় গত এপ্রিলে। ক্লাসিক্যাল, র্যাপিড ও ব্লিটজ—এই তিনটি ফরম্যাটে ফিদে আন্তর্জাতিক রেকর্ড গড়েছে সে। বর্তমানে পাঁচ বছর বয়সী ক্যাটাগরিতে বিশ্বে অন্যান্য দাবাড়ুদের চেয়ে সব ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রায়ান রশিদ মুগ্ধ। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত মুজিববর্ষ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ৩ পয়েন্ট অর্জন করে সেরা দাবাড়ুদের কাছেও প্রশংসিত হয় এই খুদে দাবাড়ু।
মুগ্ধর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আর বর্তমানে পরিবারের সাথে থাকে ঢাকার মিরপুরে। এই বয়সেই বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা মুগ্ধ স্বপ্ন দেখে বিশ্বের কাছে স্বদেশকে উপস্থাপন করতে। লালিত স্বপ্ন পূরণ করে হতে চায় বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন দাবাড়ু।
