কোভিড থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য যে বাজেটটি প্রয়োজন ছিল সেটা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের সমান রাখা হয়েছে, কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রাও কীভাবে পূরণ হবে আমাদের জানা নেই। বর্তমান পর্যায়ের সক্ষমতা দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে এটি অর্জন করা সম্ভব নয়। রাজস্বের ক্ষেত্রে পদক্ষেপগুলো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয় বরং ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য কর ও মূল্য সংযোজন করে (ভ্যাট) যে ছাড়গুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো কোভিডকালে ব্যবসাকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়টিও ভালো পদক্ষেপ। তবে ব্যক্তি-করের ক্ষেত্রে, নিচের দিকে আয়মুক্ত করের সীমা বাড়ানো হয়নি। এটি করলে সাধারণ মানুষের হাতে খরচ করার এবং বিনিয়োগযোগ্য অর্থ আসত। কেননা এ সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের ভোগব্যয় বাড়ানো।
তিনি বলেন, সরকারি ব্যয়ের বর্ধিত বরাদ্দের বড় অংশ জনপ্রশাসনের জন্য দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হবে এবং অনুন্নয়ন বা পরিচালনা ব্যয় সংকুচিত করতে হবে। এ থেকে যা সাশ্রয় হবে তা দিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে। মোট বাজেটের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ চলতি অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বৃদ্ধি পেয়ে আগামী অর্থবছরে হয়েছে ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। কিন্তু এই বরাদ্দকৃত অর্থ ২০১০ অর্থবছর অর্থাত্ যখন মহামারি ছিল না, তখনকার বরাদ্দ ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ অপেক্ষা কম। এখন টিকাদান কর্মসূচি, হাসপাতাল বেড, আইসিইউ, টেস্টিং, অক্সিজেন ইত্যাদির জন্য বরাদ্দ দরকার। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ইত্যাদির জন্যও বরাদ্দ দরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, বরাদ্দ দিলেও সেটা বাস্তবায়ন হবে কি না। কারণ আমরা দেখলাম যে, গত অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম ছিল। সুতরাং অর্থ বরাদ্দ করেও লাভ নেই। সার্বিকভাবে, দুর্বল অনুমিতি ও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা কোভিডকালীন বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
