গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. কাজী সাবিরা রহমান লিপির হত্যাকাণ্ডের চার দিন পার হয়ে গেলেও খুনের রহস্যের কোনো কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মামলার তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, লিপিকে যারা হত্যা করেছে তারা তার খুবই ঘনিষ্ঠ। কারণ তিনি তাদের চেনেন বলে নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সাত জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। লিপি খুনের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারীরা এখন লিপির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও খুনিকে শনাক্তের জন্য বাসার দরজার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেছেন মামলার তদন্তকারীরা। এছাড়াও গত রবিবার রাত ১০টার দিকে লিপির কাছে যে এসেছিলেন তাকে সাবলেটে থাকা কানিজ দেখেননি বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। এছাড়াও ভিকটিমের বাসা থেকে ছয় বাসা পর যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছিল ডিবি পুলিশ সে ফুটেজ থেকে খুনিকে চিহ্নিত করা যায়নি।
সোমবার দুপুরে কলাবাগানের ফার্স্ট লেনের ৫০/১, ভাড়া বাসা থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের কনসালটেন্ট (সনোলজিস্ট) চিকিত্সক লিপির (৪৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কলাবাগানের ঐ বাসায় সাবিরা থাকলেও তার দুই সন্তান নানির কাছে থাকত। সাবিরার দ্বিতীয় স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলাদা বাসায় থাকতেন।
পুলিশের নিউমার্কেট জোনের এসি শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। লিপির হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা যায়নি। মামলার তদন্তকারী ও ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লিপি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এ বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়েই মামলার তদন্ত করছেন। তদন্তকারীরা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জড়িত সে খুবই ধুর্ত প্রকৃতির। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সে লিপিকে হত্যা করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত ফেলে যায়নি।
সূত্র জানায়, ডা. লিপি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে লিপির একাধিক বিষয় নিয়ে মাঠে কাজ করছে তদন্তকারী সংস্থা। তারা তার ব্যক্তিগত জীবন, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কোনো চিকিত্সকের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল কি না বা তার কারো সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
