মাহবুবুল হক ইকবাল
২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। রেমিট্যান্স হলো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। করোনাকালে দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে রেমিট্যান্স। কিন্তু যাদের পাঠানো টাকায় শক্তিশালী অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতি তাদের পরিবারগুলোর অবস্থা বিপর্যস্ত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী পরিবারগুলো অর্থাত্ যেসব দেশে পরিবার নিয়ে থাকার সুযোগ নেই কিংবা সীমিত। বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকদের তিন-চতুর্থাংশ অর্থাত্ ৯০ লাখের বেশি শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে এবং রেমিট্যান্সের তিন ভাগের দুই ভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের পরিবারগুলোর অধিকাংশ অভিভাবক বা পুরুষ শূন্য। এই সুযোগে প্রবাসীর পাঠানোর টাকার ওপর লোভ পড়ে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের। প্রবাসীর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের আছে নানারকম ফাঁদ। ঋণের নামে টাকা নিয়ে ফেরত দেওয়ার নাম করে না। বেশি তাগাদা দিলে অন্য আর একটা ঝামেলায় জড়ায়। কোথাও নালিশ করলে সেও একদফা শোষণ করে। ঘরে মেয়ে থাকলে এইসব পরিবারের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। পথেঘাটে মেয়েটিকে হতে হয় উত্যক্ত। আত্মীয়স্বজনরা সৃষ্ট কোল-পিঠ সম্পর্কের কারণে পাশে এসে দাঁড়ান না আবার দাঁড়ালে যাঁরা দাঁড়ান তারা এক বা একাধিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে দাঁড়ান। ক্ষেত্রবিশেষে আত্মীয়স্বজনরাও এসব অপকর্মে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। গত ৮ মে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘ফেনীতে কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার’ শীর্ষক খবরে জানা যায় সৌদি প্রবাসীর কিশোরী মেয়েটিকে হত্যা করেছে কিশোরীর চাচাত ভাই।
যাদের পাঠানো অর্থে শক্তিশালী অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে দেশের অর্থনীতি, তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিপর্যস্ততা কোনো অবস্থাতেই কাম্য হতে পারে না। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে এর পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারগুলোর সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচীন বলে মনে করি। প্রয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সদস্য সচিব করে ৫-৭ সদস্য বিশিষ্ট সুরক্ষা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে কমিটির সদস্য যায়। কমিটি প্রতি তিন মাসে একবার প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সভা করবেন এবং তাদের সমস্যা সরাসরি শুনে যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন। সাধারণত আমরা কোনো একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতি দেখি। বলা হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু প্রবাসী পরিবারগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এইসব পরিবারের সঙ্গে শুধু প্রশাসনের সংযোগ থাকলে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার হার ৫০ ভাগ হ্রাস পাবে।
বরিশাল
