নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
চিকিত্সক ও জনবল সংকটে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এখানে চিকিত্সকের ৫৭ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক এবং আবাসিক সার্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুইটি পদের একটিতেও নেই জনবল। রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও সহকারী সার্জনের ১৭টি পদও শূন্য রয়েছে। শিশু, চর্ম ও যৌন, অর্থপেডিক্স ও প্যাথলজি বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। ফলে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিত্সকরা।
জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটী থেকে নবজাতকের চিকিত্সার জন্য এসেছেন মোছা. লুনা বেগম। তিনি জানান, বাইরে শিশু ডাক্তার দেখিয়ে এখানে বাচ্চাদের ভর্তি করে রেখেছি। বেশি অসুস্থ হলে আবারও বাইরে নিতে হবে। নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর মাজার এলাকার মারুফা আক্তার বলেন, ‘দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডাক্তার কম, রোগী বেশি। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। নীলফামারীতে কোনো ডাক্তার বেশি দিন থাকে না। ভালো ডাক্তার এলেই বদলি হয়ে চলে যায়।’ সুটিপাড়া এলাকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমার কোমরে ব্যথা, হাঁটতে পারি না। আগে রংপুরে ডাক্তার দেখিয়েছি। টাকা-পয়সার সমস্যা, তাই আজ নীলফামারী হাসপাতালে এলাম। কিন্তু এখানে অর্থোপেডিক্সের কোনো ডাক্তার নেই।’
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অমল রায় জানান, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন বহু রোগী আসছে। চিকিত্সকদের ইনডোরে রোগী দেখে আবার বহির্বিভাগে রোগী দেখতে হয়। ফলে বহির্বিভাগের রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রোগী বেশি থাকায় চিকিত্সকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না। সাপোর্টিং স্টাফ না থাকায় রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মেজবাহুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নীলফামারী হাসপাতালে ৫৭ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও পদায়ন আছে মাত্র ১৭ জন। আমরা কোনোভাবেই এত কমসংখ্যক চিকিত্সক দিয়ে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিশু, চর্ম ও যৌন, প্যাথলজি ও অর্থোপেডিক্স বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। হাসপাতালে ৬০ জন নার্সের পদ শূন্য। তৃতীয় শ্রেণির ৬১টি পদের ৪৪টি পদই শূন্য। এত কমসংখ্যক জনবল নিয়ে সেবা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি।’
