সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, উহানের ল্যাব থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে তার এই দাবি সঠিক ছিল। তিনি বলেন, এখন সবাই এমনকি তার তথাকথিত শত্রুরাও বলছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবিই সঠিক ছিল। এর আগে উহানের ল্যাবকর্মীদের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শীর্ষ মার্কিন সংক্রামক বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি। যদিও একসময় এই ফাউচিই ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছিলেন।
চীনের উহানের ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের তিন গবেষক ও কয়েক বছর আগে একটি বাদুড়ের গুহায় প্রবেশ করা ছয় খনি শ্রমিকের মেডিক্যাল রেকর্ড প্রকাশে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। কোভিড-১৯ উহানের ল্যাব থেকেই প্রথম ছড়িয়েছিল কি না, ঐ ৯ জনের অসুস্থতার ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সে রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে, বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে তার এ মন্তব্য এসেছে।
‘২০১৯ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে খবর বের হওয়া তিন জনের (ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের গবেষক) মেডিক্যাল রেকর্ড দেখতে চাই আমি। তারা কি সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, আর যদি তাই হয়, তাহলে কীভাবে অসুস্থ হন?,’ ফাউচি এমনটাই বলেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চীনের উহানেই ডিসেম্বরে প্রথম কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল। তার মাসখানেক আগে শহরটিতে অবস্থিত ভাইরোলজি ল্যাবের তিন গবেষক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে সম্প্রতি যে খবর বেরিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তা খতিয়ে দেখছে। ফাউচি কেবল এ তিন জনের মেডিক্যাল রেকর্ড চাননি, তিনি ২০১২ সালে চীনের একটি বাদুড়ের গুহায় প্রবেশ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ছয় খনি শ্রমিকের অসুস্থতা সংক্রান্ত তথ্যও চেয়েছেন। ঐ শ্রমিকদের ৩ জন পরে মারা যান। খনি শ্রমিকরা যে গুহাটিতে প্রবেশের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিজ্ঞানীরাও বাদুড়ের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহে প্রায়ই সেখানে যেতেন। উহানের ল্যাব থেকেই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে—এ সংক্রান্ত দাবিকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ অ্যাখ্যা দিয়ে চীনা বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা প্রথম থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। তাদের ভাষ্য, উহানে আঘাত হানার আগে ভাইরাসটি সম্ভবত বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলও প্রদক্ষিণ করেছে। আমদানিকৃত হিমায়িত খাদ্যের চালান কিংবা বন্যপ্রাণী কেনা-বেচা সংক্রান্ত ব্যবসার মাধ্যমে এটি চীনে প্রবেশ করে থাকতে পারে বলেও অনুমান তাদের। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাউচি এখনো বিশ্বাস করেন ল্যাব থেকে নয়, প্রাণী থেকেই মানবদেহে ভাইরাসটি এসেছে। ঐ তিন গবেষকের যদি কোভিড-১৯ হয়েও থাকে, তা ল্যাবের বাইরের মানুষদের মাধ্যমেই গেছে—এমন সম্ভাবনা বেশি বলেও ইঙ্গিত তার।
