করোনার টিকা উত্পাদনে ট্রিপস চুক্তির বাধ্যবাধকতা সাময়িক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ০০:০৮

উত্পাদনে সক্ষম উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করোনার টিকা ও অন্যান্য চিকিত্সা সামগ্রীর উত্পাদন করার জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস চুক্তির বাধ্যবাধকতাসমূহ সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ৭৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কোভিড-১৯ ও এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব মোকাবিলায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং প্রণোদনা প্যাকেজসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করে। গতকাল ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৪ মে থেকে ১ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এবারের সম্মেলনটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে ও জেনেভার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই ভার্চুয়াল অধিবেশনে যোগ দেয়। এবারের সম্মেলনে কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় ভ্যাকসিন উত্পাদন, সরবরাহ ও সুষম বণ্টনের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্সে কো-চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স মোকাবিলায় বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে। এছাড়া, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও একটি শক্তিশালী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গড়ে তোলার জন্য টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেয়।

সম্মেলনে জেনেভার জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১১টি দেশের পক্ষ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্সের ওপর দুটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ৭৪তম অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিষদ এবং প্রোগ্রাম, বাজেট ও প্রশাসন কমিটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ উভয় কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবে এ সব সভায় অংশগ্রহণ করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নির্বাহী পরিষদের সভার র?্যাপোর্টিয়ার এবং রাষ্ট্রদূত রহমান বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ‘কমিটি-বি’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবারের সম্মেলনে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোট ৩৫টি প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।