সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। গত মাসেই ফেসবুকের স্বাধীন পর্যালোচনা পর্ষদ ট্রাম্পের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেটা যেন অনির্দিষ্টকালের জন্য না হয় সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছিল। তাই এবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ফেসবুকে রাজনীতিকদের বিশেষ ছাড় উঠে যাচ্ছে। এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, উহানের ল্যাব থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর দাবিটি সঠিকই ছিল। কারণ এখন শীর্ষ মার্কিন সংক্রামক বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচিও সেই একই দাবি করছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
ট্রাম্প নিষিদ্ধ দুই বছর
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে ৭ জানুয়ারি থেকে তার পোস্ট দেওয়া নিষিদ্ধ হয়। অর্থাত্ দুই বছরের জন্য ফেসবুকে নিষিদ্ধ থাকছেন ট্রাম্প।
রাজনীতিকদের ‘বিশেষ ছাড়’ উঠে যাচ্ছে
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাইয়ের সময় রাজনীতিকদের কিছু নিয়ম থেকে যে ছাড় দিয়ে আসছিল তা বন্ধ করতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার বিষয়ে যখন রায় দিয়েছিল, তখন তারা বেশকিছু সুপারিশও দিয়েছিল। সেগুলোর ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দ্য ভার্জে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ফেসবুকের মুখপাত্র। নীতিমালা ভঙ্গকারী রাজনীতিক এবং বিশ্ব নেতাদের কনটেন্টের ওপর নজরদারি করা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যথেষ্টই ভুগতে হয়েছে প্রযুক্তি প্ল্যাটফরমগুলোকে। ফেসবুক এবং টুইটার দীর্ঘদিন ধরেই এই বলে রাজনীতিকদের পক্ষে ওকালতি করে আসছে যে, বেশি সুযোগ তাদের প্রাপ্য।
ট্রাম্পের দাবি সঠিক ছিল
ট্রাম্প দাবি করেছেন, উহানের ল্যাব থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে তার এই দাবি সঠিক ছিল। তিনি বলেন, এখন সবাই এমনকি তার তথাকথিত শত্রুরাও বলছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবিই সঠিক ছিল। এর আগে উহানের ল্যাবকর্মীদের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শীর্ষ মার্কিন সংক্রামক বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি। যদিও একসময় এই ফাউচিই ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছিলেন।
চীনের উহানের ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের তিন গবেষক ও কয়েক বছর আগে একটি বাদুড়ের গুহায় প্রবেশ করা ৬ খনি শ্রমিকের মেডিক্যাল রেকর্ড প্রকাশে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। কোভিড-১৯ উহানের ল্যাব থেকেই প্রথম ছড়িয়েছিল কিনা, ওই ৯ জনের অসুস্থতার ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সে রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে, বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে তার এ মন্তব্য এসেছে। ফাউচি চীনকে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আনুষঙ্গিক ক্ষতির জন্য চীনের কাছে দশ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন।
