অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটনশিল্প

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৭

মো. রাশেদ আহমেদ

 

বাংলাদেশকে যদি পর্যটনের দেশ বলা হয়, আর চট্টগ্রামকে পর্যটন নগরী বলা হয় তাহলে মোটেই বেশি বলা হবে না। সোনালি আঁশের দেশটি যে আসলেই পর্যটনে ভরপুর। পর্যটন এমন একটি সম্ভাবনাময় খাত যা খুব সহজে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রাকৃতিক পর্যটনের মধ্যে সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, বান্দরবান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। আর কৃত্রিম পর্যটনের মধ্যে গাজীপুর সাফারি পার্ক, ভোলার চরফ্যাশন টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক অন্যতম। প্রতিদিন এসব পর্যটন এলাকায় সমাগম ঘটে হাজারো লোকজনের—বিদেশিদের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, পর্যটকরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মখীন হন। নিরাপত্তাজনিত সমস্যাই প্রধান, যা আমাদের পর্যটন খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

পর্যটনশিল্প একটি দেশের মূল অর্থনীতির চালিকা শক্তি হতে পারে। কিন্তু এর জন্য দরকার দক্ষ ব্যবস্থাপনা, গে­াবাল ব্রান্ডি এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, এই তিনটির মধ্যে আমাদের একটিও নেই।

বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনশিল্পের উপর নির্ভর করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। এসব দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ অন্যতম। আমাদের দেশে পর্যটনে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছি। জাতীয় পার্কসহ অধিকাংশ পর্যটন জায়গা ছিনতাইকারী, ইভটিজার এবং মাদকাসক্তদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। যা পর্যটনশিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে।

অবশ্য সরকার পর্যটন খাতকে উন্নত করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো নেবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

 

০