ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনাকালে শিশুরা গত দেড় বছর ধরে ঘরে বন্দি। ঘরে বসে বসে তারা বিষণ্ন, বিরক্ত। এ পরিস্থিতিতে কিশোরী রূপকথা ঘরে মনমরা হয়ে বসে না থেকে বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছে বাগান। ৩০টি গাছ নিয়ে বাগান করতে শুরু করে এই দেড় বছরে তার ছাদ ফুলে-ফলে ভরে উঠেছে। এখন তার গাছের সংখ্যা ৩০০। গতকাল ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এভাবে রূপকথার মতো সব খোলা জায়গায় যদি ছোট করেও বাগান গড়ে তোলা যায়, পরিবেশ রক্ষায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে ছোট্ট রূপকথাও করোনার লকডাউনে ঘরে বন্দি হয়ে পড়ে। তখন রূপকথা ভিকারুন্নিসা নুন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়স ছিল মাত্র ১১। ঘরে বন্দি মানেই যে মনে বন্দি নয়, তা প্রমাণ করতে সিদ্ধেশ্বরী কনিফার টাওয়ারের বাসিন্দা ছোট্ট রূপকথা তার সৃষ্টিশীল ভাবনা আর কাজ দিয়ে করোনাকালীন দুর্যোগে বিষণ্নতাকে দূরে ঠেলে ছাদে বাগান শুরু করে। গত বছরের এপ্রিল মাসে রূপকথার ছাদবাগানের যাত্রা শুরু। করোনার এই বন্দি জীবনে অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি ছাদবাগান তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে শিশু রূপকথা।
স্বপ্ন সাজাতে সব সময় সহযোগী হিসেবে পাশে ছিলেন রূপকথার মা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আহমেদ। শুরুতে ১৫টি গাছ দিয়ে রূপকথার ছাদবাগান সাজানো হয়। ধীরে ধীরে গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাগানে এখন প্রায় ৩০০ গাছ জায়গা করে নিয়েছে। রূপকথা নিজেই গাছের পরিচর্যা করে। পানি ও সার দেওয়ার কাজ সে নিজের হাতে করে। আগাছা পরিষ্কার করে মাকে সঙ্গে নিয়ে। তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে বাসার সহকারী শিউলি। স্কুলের নিয়মে অনলাইন ক্লাসও চলছে। সেখানেও রূপকথা মনোযোগী। ক্লাস শেষ হলেই ওর কাজ ছাদে ছুটে গিয়ে গাছের সঙ্গে সময় কাটানো। মায়ের সার্বিক সহযোগিতায় রূপকথা এই করোনাকালেও মনের সব ভয় দূর করে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পেরেছে এই গল্প থেকে অন্য শিশুরাও অনুপ্রাণিত হতে পারে।
