অর্থনীতি চাঙা রাখতে ধার করে হলেও সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২২:২৫

আইসিএবির বাজেট বিশ্লেষণ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

চলমান বৈশ্বিক মহামারির অভিঘাতে দেশে রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট হচ্ছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক উেসর ওপর নির্ভরতা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়ানোর কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে পুরো অর্থবছরে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে এখন ধার করে হলেও সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। সরকারি ব্যয় ঐ সব খাতে বাড়াতে হবে যেখানে দেশীয় পণ্য এবং সেবা ব্যবহূত হয়। ফলে, দেশে কর্মসংস্থান ও জনগণের কাছে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। এই মুহূর্তে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিশ্লেষণে এই আহ্বান জানিয়েছে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদশে (আইসিএবি)। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরতে গতকাল শনিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের থেকে আইসিএবির প্রত্যাশা’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদউল হাসান খসরু। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন আইসিএবি কাউন্সিল মেম্বার মো. শাহাদাত্ হোসেন এবং স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

তারা বলেন, অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব প্রশমিত করা এবং বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা প্রয়োজন। বাস্তবতা হচ্ছে যত দিন কোভিড-১৯ মহামারি দেশে থাকবে তত দিন না হবে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ না বাড়বে কর্মসংস্থান। সুনির্দিষ্ট উপস্থাপনায় বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে এক ব্যক্তি কোম্পানির করহার হ্রাস করে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে এছাড়াও করপোরেট কর হার বিভিন্ন পর্যায়ে কমানো হয়েছে, এগুলো যৌক্তিক। তবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর ওপর কর হার বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশনের জন্যই একটি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, উেস কর কর্তন হার বৃদ্ধির ফলে পণ্য সরবরাহকারী এবং ইনফ্রা-স্ট্রাকচার কোম্পানিগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভ্যাট ফাঁকি, ব্যর্থতা বা অনিয়মের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দ্বিগুণ জরিমানার পরিবর্তে সমপরিমাণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মূসক আইন ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করলেও প্রস্তাবিত হারটি বেশি হয়। তাই, এই হার আরো যৌক্তিক পর্যায়ে আনায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়। আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার মো. হুমায়ুন কবীর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট সিদ্ধার্থ বড়ুয়া।