নড়াইলের কালিয়ায় বৃদ্ধা ছালেহা বেগমকে (৭৫) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তার দুই পুত্রবধূ আদালতে সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে নিজ ছেলে, নাতি ও নাতজামাই ঘুমন্ত বৃদ্ধার বিছানায় আগুন দিয়েছেন বলে তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছালেহা বেগমের দুই ছেলে। বড় ছেলে আরিফ খন্দকার ও ছোট ছেলে ইরোপ খন্দকার। আট মাস আগে খুন হন আরিফ খন্দকার। সেই খুনের মামলার আসামিদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ও তাদের ফাঁসাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
কালিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে রাতে উপজেলার জামরিলডাঙ্গা গ্রামে ছালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়। নিহতের দুই পুত্রবধূ নারগিস বেগম ও কুলসুম বেগম ঘটনার বিষয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। কুলসুম বেগম নিহত আরিফ খন্দকারের স্ত্রী। ইরোপ খন্দকারের স্ত্রী নারগিস বেগম।
জবানবন্দিতে তারা বলেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে গ্রাম্য দলাদলির কারণে আরিফ খন্দকারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে তাদের পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। এর জের ধরে তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আরিফ হত্যা মামলার আসামিদের মারামারি হয়। ঐ মারামারির ঘটনায় আরিফ হত্যা মামলার বাদীসহ লোকজনের নামে আসামিরা মামলা দেয়। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ২২ মে রাত ১টার দিকে ছালেহা বেগমের ছোট ছেলে ইরোপ, নাতি রাশেদ, নাতজামাই মিরাজ ও অজ্ঞাত দুই-তিন জন তার বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
কালিয়া থানার ওসি (অপারেশন) ও ছালেহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমানউল্লাহ বারি বলেন, নারগিস বেগম ও কুলসুম বেগম স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অরিফ হত্যা মামলার আসামি রাহুলের মা ঝর্না বেগমের দায়েরকৃত মামলার পালটা মামলা দায়ের করতেই ইরোপ খন্দকার তার মাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন বলে তিনি মনে করেন। কালিয়া থানার ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন, দুই পুত্রবধূর আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
