ঢালাওভাবে কালো টাকার সুযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিতে টিআইবির ক্ষোভ

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ০০:১৫

ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাড়ানোর ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাতে বিস্ময়, হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, চলতি বাজেটে অপ্রদর্শিত আয়ের মোড়কে ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার যে অনৈতিক সুযোগ রাখা হয়েছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে সেটি না বাড়ানোয় সত্ করদাতাদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি মিলেছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে তা উত্কণ্ঠায় পরিণত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ‘এক মাস দেখে সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। টিআইবি আশা করে, অর্থমন্ত্রী এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবেন এবং ৩০ জুনের পর দুর্নীতিসহায়ক, বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক সুবিধাটি আর না বাড়িয়ে দুর্নীতিবাজদের একটি কঠোর বার্তা দেবেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাজেট অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দিকনির্দেশনায় তৈরি একটি সমন্বিত চিন্তার আর্থিক দলিল। কিন্তু সেটি সংসদে উপস্থাপনের পরদিনই তারই একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংশয় এবং বাস্তবে ইউ-টার্ন সত্যিই অবাক করার মতো।

ড. জামান বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেকর্ড ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বৈধ করার ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর একটি প্রচেষ্টা শুরু থেকেই ছিল, শঙ্কা হচ্ছে তিনি অন্যায় এই সুবিধার পক্ষে সেই ঢালটি এখন ব্যবহার করতে চাইছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

অথচ এর মাধ্যমে সত্যিকারভাবে সরকার কতটা রাজস্ব ক্ষতির স্বীকার হলো সেটি কোনোভাবেই বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। যেটিকে সত্ ও বৈধ পন্থায় উপার্জনকারী করদাতাদের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার মাধ্যমে কর ব্যবস্থায় খেলাপির সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের পাঁয়তারা বলে মনে করা মোটেই বাহুল্য হবে না। ড. জামান বলেন, আয়কর অধ্যাদেশের আইনি মারপ্যাঁচে থাকা অপ্রদর্শিত আয়ের মোড়কে কালো টাকা সাদা করার অন্যান্য সুযোগ বাতিল করার এখনই সময়।