দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষক
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় মরিচ চাষ বেশি হওয়ায় এখানে জেলার একমাত্র মরিচের হাট বসে। গজারিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রসংলগ্ন হাটে নৌকাযোগে বিভিন্ন চর থেকে প্রচুর মরিচ আসে। ‘ফুলছড়ি মরিচ হাট’ নামে পরিচিত এই হাট এখন শুকনো মরিচের আমদানিতে লালে লাল হয়ে উঠেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় মরিচের দাম কম হওয়ায় এবার কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
হাটে গিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের কয়েকটি চর থেকে কৃষক ও পাইকাররা মরিচ বিক্রি করতে আসেন জেলার একমাত্র এই মরিচের হাটে। আর বগুড়া জেলা থেকে মরিচ কিনতে আসেন ব্যাপারীরা। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার দুই দিন সকাল সাতটা থেকে হাট বসে। প্রতি হাটে ২ হাজার মনের বেশি মরিচ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান টোল আদায়কারী। গত বছর উপজেলা প্রশাসন এই হাট ৮৬ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছিল। তবে ১০ পার্সেন্ট হারে প্রতি বছর ইজারা মূল্য বৃদ্ধির মুখে এবার এই হাট কেউ ইজারা নেয়নি। উপজেলা প্রশাসন খাস আদায় করছে বলে জানান, খাস আদায় কমিটির সদস্য গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম সরকার। কৃষি বিভাগের হিসেবে জেলায় মোট ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির মধ্যে ফুলছড়ির চরেই মরিচ চাষ হয়েছে ৮০০ হেক্টর জমিতে। ৪০ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উত্পন্ন হয়েছে এবার। হাইব্রিড, বগুড়ার জাত ও স্থানীয় জাতের মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা। উপজেলার খাটিয়ামাড়ী চরের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, বিঘাপ্রতি কাঁচা মরিচ উত্পাদনের খরচ পড়েছে ২৬ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ৫০ মণের বেশি মরিচ উত্পন্ন হয়। ৫০ মণ কাঁচা মরিচ শুকিয়ে ১০ মণ শুকনা মরিচ পাওয়া যায়। মরিচ শুকানো, পরিবহন এবং বাজারজাত খরচসহ মণপ্রতি ব্যয় যা হচ্ছে তাতে খুব সামান্য লাভ টিকছে বলে জানান তিনি। গত বছর যেখানে শুকনা মরিচ ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে এবার তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এবার মানভেদে মরিচের মণ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মরিচ বিক্রেতারা জানান, এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসেন হাজারখানেক কৃষক ও পাইকার। আর বগুড়ার প্রায় পঞ্চাশ জন ব্যাপারী আসেন মরিচ কিনতে। হাট বগুড়ার ব্যাপারীদের একচেটিয়া দখলে থাকায় তারাই দাম নির্ধারণ করেন। বগুড়া থেকে মরিচ কিনতে আসা ব্যাপারী জহুরুল মরিচের কম দাম প্রসঙ্গে বলেন, করোনার কারণে ঢাকার গুঁড়া মসলা উত্পাদনকারী কোম্পানিগুলো যেমন কম মরিচ কিনছে তেমনি পরিবহন খরচও বেশি পড়ছে। তাছাড়া এবার বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে মরিচের মানও ভালো না। তাই দাম কিছুটা কম।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় যে পরিমাণ মরিচের চাষ হয় তার অর্ধেকই উত্পন্ন হয় ফুলছড়ি উপজেলায়। দিনদিন মরিচ চাষ এখানে বাড়ছে।
