প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়নি। করোনার কারণে দেশে যে দেড় থেকে দুই কোটি নতুন দরিদ্র বেড়েছে সে বিষয়ে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। তথ্য-উপাত্তের যে ঘাটতি রয়েছে, সেটি এখন নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে। বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বলা হলেও এটি হয়েছে বড় ব্যবসাবান্ধব। তুলনামূলক ছোট ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু বলা হয়নি।
গতকাল রবিবার ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২: পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপের সদস্য এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনলাইনে এই সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আরো বক্তব্য দেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, রাশেদা কে চৌধুরী, শাহীন আনাম, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, আসিফ ইব্রহিম।
বাজেটকে এক কথায় মূল্যায়ন করতে বলা হলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সময়ে একবার বলেছিলাম অর্থমন্ত্রী ছোট রাস্তায় বড় গাড়ি নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। এখন বলব বর্তমান অর্থমন্ত্রী সেই গাড়িতে লোক তুলতে ভুলে গেছেন। গত কয়েক বছরে বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে রাস্তা বড় হয়েছে। কিন্তু সেই রাস্তার গাড়িতে পিছিয়ে পড়া মানুষকে যাত্রী হিসেবে তুলতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। পিছিয়ে পড়া মানুষেরা ঐ গাড়ির যাত্রী হতে পারেননি।
মূল উপস্থাপনায় তিনি বলেন, এত দিন তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি ছিল। এখন তা তথ্য-নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে। তথ্য ঘাটতির কারণে বাজেটে জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। একটি ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণভাবে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক খাত বেশি সুবিধা পেয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাত তেমন কিছু পায়নি। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা বাজেট প্রণয়নে আমলে আনা হয়নি। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়ে বেশি হলেও দরিদ্রদের ভাতা সে দেশের চেয়ে কম কেন, সে প্রশ্ন রাখেন দেবপ্রিয়।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা খাত বিপর্যয়ের বিষয়টি বাজেটে আনা হয়নি। শিক্ষায় বৈষম্য প্রকটতর হচ্ছে। এ বাজেট মোটেও শিক্ষাসহায়ক বাজেট হয়নি।
