আমিনুল ইসলাম হিরু, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা
গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘তীর সংরক্ষণ বাঁধ’ মেরামত না করায় নদীভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন পয়েন্টে ধস এবং ওয়াক ওয়ের (টপ) পাশে বড় বড় খাদ সৃষ্টি হয়ে তীররক্ষা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়লেও দীর্ঘ সময়ে সংস্কার করা হয়নি।
জানা গেছে, ইছামারা পয়েন্টে তীররক্ষা বাঁধের ব্লক পিসিং ধসে নদীর তলদেশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ১০ মিটার পর্যন্ত গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সময় থাকতে ধস এবং খাদ সংস্কার না করা হলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধের পুরোটাই ধসে গিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কামালপুর, কর্ণিবাড়ি, কুতুবপুর এবং চন্দনবাইশা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। নদী পাড়ের ভুক্তভোগী লোকেরা জানান, সংস্কার না হওয়ায় ইতিপূর্বে তালুকদার পাড়ায় তীররক্ষা কাজ ধসে গিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে থেকে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে ধস আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘুঘুমারি গ্রামের শহিদুল ইসলাম, সুমন মিয়া, কালু গাজী জানান, নদী রক্ষা কাজ হওয়াতে আমরা আশস্ত হয়েছিলাম। বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি রক্ষা পাবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ধস নামায় আমরা এখন আর এখানে বসবাস নিরাপদ মনে করছি না। তিন বার বাড়ি ভাঙনের শিকার চন্দনবাইশার বাসিন্দা অধ্যক্ষ সাদত হোসেন জানান, ইতিপূর্বে বহু কোটি টাকা ব্যয়ে তালুকদারপাড়ায় ২ হাজার মিটার তীররক্ষা বাঁধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত না করায় ঐ কাজ ধসে যায়। ভাঙনে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ চন্দনবাইশা বাজারের শতাধিক দোকান, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যমুনাগর্ভে বিলীন হয়। নদীভাঙন রোধে দুই বছর আগে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামারা পয়েন্ট থেকে মথুরাপাড়া পয়েন্ট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
চন্দনবাইশা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন দুলাল জানান, নদীভাঙন থেকে জনপদ নিরাপদ রাখতে বন্যার আগেই জরুরি ভিত্তিতে তীররক্ষা বাঁধ সংস্কার প্রয়োজন। বাঁধ তদারকির দায়িত্বরত সেকশন অফিসার (্এসও) আহসান হাবিব জানান, ইছামারা ভাঙন এলাকায় ইতিমধ্যে ৩০ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। সেখানকার কাজের এস্টিমেট করে পাঠানো হয়েছে। পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত তীররক্ষা বাঁধ মেরামত ও মাটি দিয়ে খাদ ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইছামারা পয়েন্টে সংস্কারে কয়েক কোটি টাকার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে।
