সাতগাঁও-সিন্দুরখান সড়ক
অনুজকান্তি দাশ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও-সিন্দুরখান ভায়া আশিদ্রোণ সড়ক খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের যত্রতত্র ভাঙনের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাতগাঁও বাজার থেকে পার্শ্ববর্তী আশিদ্রোণ ইউনিয়নের জামসী কালীবাড়ী হয়ে সিন্দুরখান যাওয়ার পথে সাত কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ছোট-বড় খনাখন্দে পানি জমে রয়েছে।
উপজেলা এলজিইডির সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংক-আইডিএ-এর অর্থায়নে আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় সাতগাঁও জিসি-সিন্দুরখান ভায়া কালীবাড়ী বাজার সড়কের ৬ দশমিক ৭৯০ কিলোমিটার অংশ মেরামতের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ৬ কোটি ৫৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫৫২ টাকার চুক্তিমূল্যে সড়কের টেন্ডার পায় ডলি কন্সট্রাকশন নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে শুরুর কিছু দিনের মধ্যেই কাজ বন্ধ করে দেয় ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালের ৩ অক্টোবরের মধ্যে এই কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি এ কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয় একরামুর কবীর, দেবব্রত সেন বিষ্ণু, বখতিয়ার উদ্দিন, পরেশ পাল, আল আমিন, সুব্রত দেব, নিতাই দাশসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, সড়কের যত্রতত্র ভাঙনের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পুরো সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ভূজপুর, দেবীপুর, কালীবাড়ী, জামসী, তপশ্বীপাড়া, পশ্চিম আশিদ্রোণ, পাড়ের টং, ডুবাগাঁও, হরিণাকান্দি, রঘুনাথপুর, পাইকপাড়া, বাজারবাড়ি, বনগাঁও, কাদিরগাঁও, মন্দিরগাঁও, কামারগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যবস্থায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। প্রতিদিন চরম ভোগান্তি নিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে শহরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় সাতগাঁও-সিন্দুরখান ভায়া আশিদ্রোণ সড়ক মেরামত কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডলি কন্সট্রাকশনের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। ওই সড়কের বর্তমান অবস্থা জরিপ করে পরবর্তী টেন্ডার ঘোষণা করা হবে।
