শুভ সিকদার, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। এই করোনা সংক্রমণের সময়ে দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সবিহীন রাঙ্গাবালী উপজেলায় করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই। ফলে উপসর্গ দেখা দিলেও নমুনা দিতে পারছেন না রোগীরা। নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা না হলে এখানে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থেকেই যায়।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলাটির যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু এর পর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে ওঠেনি। করোনা আক্রান্ত অসুস্থ রোগীদের পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু রাঙ্গাবালীর সঙ্গে গলাচিপার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে আগুনমুখা নামক একটি নদীও অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় লাগে আরো বেশি। খরচও হয় প্রচুর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া ও চরমোন্তাজে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে আজও তা হয়নি। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে একটি আরডি (রুরাল ডিসপেনসারি) থাকায় সেখানে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। নেই কোনো এমবিবিএস ডাক্তার। এমনকি অস্ত্রোপচারের বা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার নেই কোনো ব্যবস্থা।
উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া বাজারের গ্রাম ডাক্তার আল-আমিন বলেন, ‘এ উপজেলায় হাসপাতাল না থাকায় বর্তমানের করোনা কিংবা ডায়রিয়ার অসুস্থ রোগীদের নদী পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কিংবা পটুয়াখালী নিতে হয়। এছাড়া ডায়রিয়া রোগীদের জন্য স্যালাইন সংকটে আমাদের মতো গ্রাম ডাক্তারেরা রয়েছে বিপাকে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আমাদের উপজেলায় একটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা জরুরি প্রয়োজন।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘রাঙ্গাবালীর চিকিত্সা সেবার সমস্যা দূর করতে অচিরেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। কিছু জমির কাগজ-পত্রে সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্থান পরিদর্শন করেছেন। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য এক বছর আগে থেকেই ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শেষ হলে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু ও জনবল পদায়ন হবে।’
