রাঙ্গামাটিতে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ২১:০৫

ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটিতে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হলে আবারও বড় ধরনের পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ পাহড়ের নিচে মানুষের বসবাস কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে। পাহাড়ের নিচে মানুষ পুনরায় ঘরবাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে।  উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনায় ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে বসবাসের ওপর সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বর্ষা শুরু হলেই মানুষ যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসে তা নিয়ে আগাম প্রচারণা শুরু করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

২০১৭ সালে  ১৩ জুন ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৮ নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে ১১ জন এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাই উপজেলায় সাত জন প্রাণ হারায়। প্রতিবারই বর্ষায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সেই মৃত্যুকূপে পুনরায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে লোকজন। প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ না করতে নিষেধ করে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হলেও সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না লোকজন। ফলে শহরের রূপনগর, শিমুতলী, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি পৌর শহরে ৩৩টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সচেতনতামূলক সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য ২৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আর কোথাও যদি পাহাড় ধসে দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য ৯টি ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙ্গামাটিসহ ৯টি উপজেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালের পাহাড়ধসের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যাতে পাহাড়ধসের কারণে প্রাণহানি আর না   ঘটে। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে মানুষ যাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায় তার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।