ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নিতে হবে

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ২১:১২

ভূমিকম্প এক ধরনের পূর্বাভাসহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভূ-অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার ওপরে উঠে আসে তখন ভূমির কম্পন হয়। ভূমিকম্প মূলত টেকটোনিক প্লেটের ফল্ট লাইনগুলোর সংঘর্ষে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ মূলত ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান, বার্মিজ—এ তিন গতিশীল প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশ অতিমাত্রায় ভূমিকম্পন ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পন বলয়ে অবস্থিত। ফলে দেশটি যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের কবলে পড়তে পারে। এমনকি রিকটার স্কেলে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলো ধসে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৯ মে দফায় দফায় সাত থেকে আট বার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট শহর। এতে সাধারণ  মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। এজন্য সচেতন করতে হবে। বড় ভূমিকম্প হলে সাধারণ মানুষ কী করবে, সেজন্য মহড়া আয়োজনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে বিল্ডিং কোড মেনে সঠিক গ্রাউন্ড মেশিন দিয়ে বিল্ডিং ডিজাইন করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়াতে হবে আরো। পাশাপাশি জাপান ও চীনের মতো উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। তবে আগাম প্রস্তুতি ও মানুষকে সচেতন করতে পারলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

মো. আশরাফুল ইসলাম

শিক্ষার্থী,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়