ফৌজদারি অপরাধে বিদেশের মাটিতে দণ্ডিত হন স্বতন্ত্র এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল। নৈতিক স্থলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হওয়ায় তার নির্বাচনি আসন লক্ষ্মীপুর-২ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর ঘোষিত হয় উপনির্বাচনের তপশিল। ঐ আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচনের তপশিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পাপুলের বোনের দায়েরকৃত রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী রিট আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি নন। তার রিট আবেদন করার এখতিয়ার নেই। এ কারণে আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হলো।
ঘুষ লেনদেনের মামলায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলকে গত ২৮ জানুয়ারি সাজা দেয় কুয়েতের ফৌজদারি আদালত। রায়ে পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার বা ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করে। দেশের ইতিহাসে কোনো এমপির বিদেশের মাটিতে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া ও কারাগারে আটক থাকার ঘটনা এটাই প্রথম। বিদেশের মাটিতে দণ্ডিত হওয়ার পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপুলের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। পরে নির্বাচন কমিশন ৪ মার্চ উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তপশিলে ১১ এপ্রিল নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে ২১ জুন নির্ধারণ করা হয়।
এই আসন শূন্য ঘোষণা ও তপশিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং ঐ আসনের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন। রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট এমপির আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন শূন্য ঘোষণা করার সুযোগ নেই। সংসদের কার্যবিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে দণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্পিকার আসন শূন্য ঘোষণার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এমপি পাপুলের ক্ষেত্রে কুয়েতের আদালত থেকে এমন কোনো চিঠি বা তথ্য স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়নি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ আসন শূন্য ঘোষণা করা যায়। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী শুনানি করেন।
