ধূলিধূসর বইমেলায় নতুন বইয়ের ঘ্রাণ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫২

বাঙালির জীবনে ফিরে এলো নতুন বইয়ের গন্ধ জড়ানো মাদকতাময় মাস। ফিরে এলো বইমেলা। তবে প্রথম দিন মেলা ছিল খুব অগোছালো। এখনও অনেক স্টল খোলেনি, শেষ হয়নি গোছগাছ। মেলার কোনায় কোনায় অন্ধকার। আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা হয়নি এখনও। সব মিলিয়ে মেলা গুছিয়ে উঠতে পারেনি। যারা স্টল খুলেছেন সেসব স্টলে এখনও বই সাজানো চলছে। মেলায় ঢুকলেই ধুলায় পা মাখামাখি হয়ে যায়। তবুও মন ভালো হয়ে যায়। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ সব আকর্ষণ কেড়ে নেয়।

গতকাল শুক্রবার প্রথম দিন বইমেলা উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রীর মেলা প্রাঙ্গণে আসেন। নিরাপত্তার বেড়াজালে ঘিরে থাকে বইমেলা। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই বাইরে অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষের মেলায় প্রবেশের মধ্য দিয়েই প্রাণ পায় বইমেলা। কিন্তু এবার তা হয়নি। কারণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বইমেলার প্রবেশ পথের চাবি পাওয়া যাচ্ছিল না। যার কাছে চাবি তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অগত্যা কয়েক শ’ পাঠক, লেখক, প্রকাশক প্রায় ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকলেন রাস্তায়। মেলার গেট খুললো পৌনে ছয়টায়। সবাই ছড়িয়ে পরলেন মেলা প্রাঙ্গণে।

এবারের মেলার পথ বেশ প্রশস্ত। প্রতিটি স্টলের মাঝে বেশ ফাঁক রাখা হয়েছে। স্থাপত্যবিদের ছোঁয়ায় মেলা যে এবার বেশ নান্দনিক এবং দর্শনীয় হবে তা প্রথম দিনেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু প্রথম দিন সবচেয়ে বেশি যেটা দর্শকদের কষ্ট দিয়েছে তা ধুলা। লেখক আনিসুল হক মেলা প্রাঙ্গণে এ ধুলার কারণে বেশ বিরক্ত। বললেন, ‘যেভাবেই হোক ধুলা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এত ধুলার মধ্যে তো চলাফেরাই করা যাচ্ছে না।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, মেলায় ধুলার সমস্যা রয়েছে। আজ-কালের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সন্ধ্যের পর বেশ জমে ওঠেছিল মেলা। সিসিমপুরে শিশুদের লাফঝাঁপ, হুটোপুটি আর চিত্কার পুরো মেলাকেই উজ্জ্বল করে তুলেছিল। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন বলেই প্রায় সব স্টলেই ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেল। কিছু কিছু স্টলে তো রীতিমত ভিড় জমে গিয়েছিল। তাম্রলিপি, প্রথমা, অবসর, কথাপ্রকাশ, মাতৃভূমি এসব স্টলে পাঠকের বেশ ভিড় দেখা গেছে। মেলায় আসা দর্শকদের জন্য সুন্দর বসবার ব্যবস্থা করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। বেশকিছু পরিবার সেখানে বসে আড্ডা দিয়ে সময় কাটিয়েছেন।

জানতে চাইলে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বললেন, ‘বইমেলা শুরুর দিকে কিছুটা অগোছালো থাকে। ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠে। এবার প্রথম দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় মেলায় পাঠকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। আশা করছি এবছর বইমেলা পুরো মাস জুড়েই জমজমাট হবে।’

বইমেলায় প্রথম সপ্তাহেই বেশিরভাগ বই চলে আসে মেলায়। বইমেলায় প্রথম দিনই চলে এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিশরীয় লেখকের লেখা বইয়ের অনুবাদ গ্রন্থ ‘শেখ হাসিনা: যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। সময় প্রকাশনী এনেছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘নির্বাচন ও প্রশাসন’ এবং ‘আমার সিলেট’, শিল্পী হাশেম খানের ‘জয়নুল আবেদীনের সারা জীবন’ প্রভৃতি। সন্জীদা খাতুনের ‘নজরুল মানস’ প্রকাশ করেছে নজরুল ইনস্টিটিউট। তাম্রলিপি এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ‘নিয়ান’, চারুলিপি এনেছে শহীদুল্লা কায়সারের কাব্যগ্রন্থ ‘চারিদিকে ফুলের মেলা’ এবং রবার্ট পেইনের লেখা ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাবানুবাদ গ্রন্থ ‘পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু’, বেঙ্গল পাবলিকেশন্স এনেছে বিশ্বজিত্ ঘোষের ‘অতুলপ্রসাদ সেন’, মধুময় পাল গ্রন্থিত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সেরা কিশোর সম্ভার’ প্রভৃতি।

আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষা আজ শুরু

আজ শিশু প্রহর: অমর একুশে গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই রয়েছে শিশু প্রহর। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুরা তাদের অভিভাবক নিয়ে মেলায় আসতে পারবেন। দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে বড়দের জন্য।

ইত্তেফাক/আরকেজি