চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন

আপডেট : ০৯ জুন ২০২১, ২১:৪২

চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে প্রশাসন। এ ব্যাপারে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে বলে বুধবার ইত্তেফাককে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান। তিনি বলেন, পাহাড়ে জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে প্রথমে সেটা চিহ্নিত করে আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এরপর অবৈধ বাসিন্দাদের পাহাড় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার নগরীর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক। বিভাগীয় কমিশনার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতে এসব পাহাড়ে অনেকে হতাহত হয়েছে। আমরা তো আদালতের বাইরে গিয়ে এদের অবৈধ বসতি বলতে পারি না। আগে মালিকানার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। বিরোধপূর্ণ হলে সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। তবে আমরা সব পক্ষকে নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সরকারিভাবে গঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের তালিকা করেছিল। সেই তালিকায় চট্টগ্রামে ১৭টি পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। বাকি সাতটি পাহাড়ের মালিক রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ, বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ঐ তালিকা ধরে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এরপর ঐ অভিযান আর এগোয়নি। এ কারণে গত দুই বছরে পাহাড়ে অবৈধ বসতির সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের সাতটি স্থানে পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া প্রায় প্রতি বছরই কোথাও না কোথাও পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এসব বসতিতে মোটা টাকার বিনিময়ে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংযোগ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বায়েজিদ-ভাটিয়ারি লিংক রোড বন্ধ

এদিকে, চট্টগ্রামে ১৬টি পাহাড় কেটে নির্মাণ করা বায়েজিদ-ভাটিয়ারি লিংক রোড পাহাড়ধসের আশঙ্কায় গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে এ রাস্তাটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর। এই সড়কের উভয় পাশে অন্তত আটটি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে বলে জানা গেছে। সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ায় বায়েজিদ, নাসিরাবাদ, রুবি গেট ও অক্সিজেন মোড় এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে। নগরীর যানজট এড়িয়ে বেশির ভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্য এই সড়ক দিয়েই পরিবহন করা হতো। কিন্তু সড়কটি বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানগুলো শহরের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করছে। এতে নগরীতে যানজট বেড়েছে।