বজ্রপাতে মৃত্যুর হার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। কীভাবে আমরা বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে পারি, সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো
ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে সাধারণত বজ্রপাত হয়ে থাকে। তবে কালবৈশাখী সক্রিয় থাকলে বজ্রপাত বেড়ে যায়। চলতি মাসে প্রতিদিনই বজ্রপাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এতে নিয়মিত মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে। জুনের প্রথম সপ্তাহেই বজ্রপাতে সারা দেশে ৫৬ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বজ্রপাতের পরিমাণ বেড়েছে। তবে বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতন হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের দেশে বজ্রপাতের অন্যতম কারণ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং গাছপালা, বন উজাড় হয়ে যাওয়া। বজ্রপাত প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনতা নেই, নেই সঠিক দিকনির্দেশনা। সুতরাং বজ্রপাত থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন সচেতনতা।
মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
ইব্রাহীমপুর, ঢাকা
বজ্রপাতকে একধরনের পূর্বাভাসহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা যায়। সাম্প্রতিক বজ্রপাতে আমাদের দেশে বেশ কিছু সংখ্যক লোক মারা গেছে। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
বজ্রপাতকালীন খোলা আকাশের নিচে থাকাটা অনেকটা আত্মহত্যারই শামিল বলা চলে। নামমাত্র পূর্বাভাস থাকলেও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার কবল থেকে বাঁচতে হলে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সতর্কতার বিকল্প নেই। বজ্রপাত থেকে জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও করণীয় সম্পর্কে জানাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
আবু ফারুক
বনরূপা পাড়া, বান্দরবান
বজ্রপাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান ক্রমশ বাড়ছে। মূলত সচেতনতার অভাবেই বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম
কৃষক ও দিনমজুর শ্রেণির লোকজনের মধ্যে বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ এফ এম সালাহউদ্দিন
বান্দরবান
সমপ্রতি দেশের কয়েকটি জায়গায় বজ্রপাতের কারণে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য তাই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বজ্রপাত শুরু হলে খোলা মাঠ, রাস্তা বা যে কোনো খোলা জায়গা থেকে সরে কোনো ছাউনিতে আশ্রয় নিতে হবে। বৈদ্যুতিক তার বা মোবাইলের টাওয়ার থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজ বন্ধ রাখতে হবে।
সাদিয়া সরকার অনি
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে আঘাতজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা এ সম্পর্কে সবার সতর্ক হওয়া উচিত বলে বার্তা দেয়। সাধারণত আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। যেহেতু বৃষ্টির মধ্যে আকস্মিকভাবে বজ্রপাত ঘটে তাই এর পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব নয়। বৃষ্টির সময় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে। বজ্রপাতে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার মাধ্যমেই মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে।
ফাতিমা তুজ জোহরা
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সংবাদমাধ্যমে ইদানীং অহরহই শোনা যাচ্ছে বজ্রপাতে দুর্ঘটনার খবর। বজ্রপাতের সময় ঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন সুইচবোর্ড, লোহার জানলা-দরজা সাবধানে ব্যবহার করতে হবে, প্লাস্টিকের স্লিপার পরার অভ্যাস রাখা ভালো। যাদের হূদযন্ত্র দুর্বল, তারা বজ্রপাতের সময় আলো এবং শব্দের তারতম্য দেখে সাবধানে থাকার চেষ্টা করতে পারেন।
মীম রাইয়ান খান
ঢাকা
বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব নয়। তবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। শহরাঞ্চলে আবাসিক ভবনগুলোতে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করতে হবে। এতে করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষ বজ্রপাতে প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া বজ্রপাতের সময়ে কোনো খোলা জায়গা, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগের কাছাকাছি অবস্থান না করা এবং ঘরের টিভি ও ফ্রিজের বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখার মাধ্যমে আমরা বজ্রপাতের সময় নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারি।
মাহমুদা সুলতানা তামিম
ঢাকা
বিজলি বা বজ্রপাত সম্পর্কে মানুষের সচেতনতায় অনীহা থাকায় বজ্রপাতে মানুষ মারা যাচ্ছে। বজ্রপাত থেকে পরিত্রাণ পেতে অধিক সচেতন হতে হবে।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
রাস্তাঘাটে, নদীর মধ্যে অথবা ফসলের মাঠে থাকা অবস্থায় যদি বজ্রপাত শুরু হয় তাহলে নিকটবর্তী বসতি এলাকায় অবস্থান নেওয়া উচিত। জনগণ যদি সতর্ক থাকে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কমে আসবে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
বজ্রপাত সম্পর্কে সতর্কতা এবং সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন।
বজলুল করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা
বজ্রপাতের মৃত্যুর হার প্রতিনিয়তই যে বাড়ছে—এ কথা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। মানব সভ্যতার বিকাশের ফলে আমরা জীবনের তাগিদে গাছপালা, বন-জঙ্গল উজাড় করে ফেলছি। ফলে দেশের বড় বড় উচ্চ বজ্রপাত প্রতিরোধক গাছপালাগুলো নেই বললেই চলে। দেশের অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণ তালগাছ, সুপারি ও অন্যান্য উচ্চ জাতের বৃক্ষাদি রোপণ অতি জরুরি।
মো. হাফিজুল ইসলাম
রাজশাহী-৬২০২
বজ্রপাত থেকে রেহাই পেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। সরকার সাধারণ নাগরিকদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সেগুলো মেনে চলতে হবে।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর, ঢাকা
বজ্রপাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে! কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বজ্রপাত থেকে বাঁচা অনেকটাই সম্ভব। যেমন—বেশি বেশি তালগাছ রোপণ করা, বজ্রপাতের সময়, ছাদে, খোলা জায়গায় বা উঁচু ভূমিতে অবস্থান না করা, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করা, ফোন ব্যবহার না করা, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফ্রিজ ও ইলেকট্রনিক যাবতীয় যন্ত্রপাতির বিদ্যুত্-সংযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন রাখা, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা ইত্যাদি।
উবাইদুল্লাহ তারানগরী
ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের কারণে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে । যে সময়ে বজ্রপাত হয় সে সময়ে ঘরে অবস্থান করতে হবে, অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে বাইরে যেতে হবে, বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে থাকা যাবে না। বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না। এছাড়া বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সাদিয়া সুলতানা মাহি
সাভার, ঢাকা
প্রতি বছর বজ্রপাতে অনেক লোক মারা যাচ্ছে। তবে সচেতনভাবে চলাচল করলে এই বজ্রপাত থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যাবে।
প্রহরী মনিরুজ্জামান
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
বজ্রপাতের সময় সর্তক থাকতে হবে, নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে হবে। এসময় মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
ফাহাদ
যশোর
আমাদের দেশে বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা উচিত।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাত প্রতিরোধের এখন পর্যন্ত কোনো উপায় আবিষ্কার না হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনো দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারেন। উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকুন।
মো. জিল্লুর রহমান
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বজ্রপাত বেশি হয় এবং এ কারণে মানুষের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এর কারণ হচ্ছে বজ্রপাত সম্পর্কে মানুষের সঠিক ধারণা না থাকা। সাধারণত খোলা মাঠে যারা কাজ করেন তারাই বেশি বজ্রপাতের শিকার হন। আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাত বেশি হয়ে থাকে। বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকার জন্য দুই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এক. স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। এ ক্ষেত্রে উচ্চ বৃক্ষ, বিশেষ করে বেশি করে তালগাছ রোপণ করতে হবে। দুই. মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বজ্রপাতে বিদ্যুত্ পরিবাহিত হয় এমন সব ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে থাকলে বারান্দা ও জানালার গ্রিল ও কাচে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। গাড়িতে থাকলে গাড়ির কাচে হাত দেওয়া যাবে না। বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না। বাসাবাড়িতে বিদ্যুত্ পরিবাহী ধাতব বস্তু বসাতে হবে, যাতে করে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।
কামরুজ্জামান
শ্রীপুর, গাজীপুর
চলতি মাসের পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে প্রতিদিনই বজ্রপাতে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বজ্রপাতে সতর্কতার পাশাপাশি আমাদের সচেতনও হওয়া দরকার। বজ্রপাতের সময় ফোন, কম্পিউটার, ফ্রিজ ও টিভিসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম থেকে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে। এ সময় কৃষকদের উচিত যথাসম্ভব দ্রুত ছাউনির নিচে আসা। সবার উচিত বজ্রপাতের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই যে যার জায়গা থেকে সচেতনতা অবলম্বন করা।
ফারহানা ইয়াসমিন
অভয়নগর, যশোর
