ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খুঁজে বের করতে মাঠে তদন্ত দল

আপডেট : ১০ জুন ২০২১, ২২:০৮

ভূমিকম্পপ্রবণ সিলেট নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে খুঁজে বের করতে মাঠে নেমেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকালে পৃথক দুটি তদন্ত দল ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো পরিদর্শন করেন। শাবির অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোস্তাক আহমেদ এবং সিইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির বিন আলম পৃথক দুুটি টিমের নেতৃত্ব দেন। সিসিক সূত্র জানায়, নগরীর ৪২ হাজার ভবনে এই জরিপ চালানো হবে এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এগুলোকে ভাগ করা হবে।

গত বুধবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত শাবি ভিসির কনফারেন্স কক্ষে সিসিকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহের জরিপ শুরু হয়েছে জানিয়ে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পর্যায়ক্রমে নগরীর বাকি সব ভবন সার্ভে হবে। এ নিয়ে শাবির সঙ্গে সিসিকের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। শাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সিলেটের সাম্প্রতিক ভূমিকম্প নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করতে সহযোগিতা চেয়েছে সিসিক। শিক্ষকরা সরেজমিনে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে রিপোর্ট প্রদান করবেন। রিপোর্ট অনুযায়ী ভবনগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠিত সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) বিধায়ক রায় চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোস্তাক আহমেদ, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজিজুল হক, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম, বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হাওলাদার, সিইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির বিন আলম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইমরান কবীর, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শাবির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (সিইই) ও পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা এসব ভবন কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ—এ নিয়ে সিসিককে পরামর্শ দেবেন বলে জানান সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ টিমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বন্ধ করে দেওয়া মার্কেটগুলো খোলার সিদ্ধান্ত নেবে সিসিক। গত ২৯ মে কয়েক দফা ভূমিকম্প-পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নগরের ছয়টি মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩১ মে সকাল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত এ সব মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মার্কেটগুলো হলো—সিলেট নগরীর মিতালি ম্যানশন, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, রাজা ম্যানশন, সমবায় ভবন ও সুরমা মার্কেট। এই ছয়টি মার্কেট আগেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। এছাড়া অতিঝুঁকিতে থাকা জিন্দাবাজারের একটি দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর পনিটুলা এলাকায় সামান্য হেলে থাকা ভবনের বাসিন্দাদেরও ১০ দিনের জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।