বাংলাদেশের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, যিনি এতদিন সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে আগামী ২৪ জুন থেকে তিন বছরের জন্য তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এই দায়িত্বে তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওয়াহিদা সুলতানার সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো খুলনার সন্তান সেনা প্রধান হতে যাচ্ছেন। এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বাড়ি খুলনার পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায়? তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রোকন উদ্দিন আহমদ স্বাধীনতা পূর্বকালে এক নাগাড়ে দু যুগ ইকবাল নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লেঃ জেনারেল শফিউদ্দিন উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে মোজাম্বিকে ১৬ মাস শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এ ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য এসআরএসজি কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফেন্স স্টাডিজ-এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমআইএসটি হতে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি অসামান্য ফলাফলসহ ডেভলপমেন্ট এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এ এম.ফিল সম্পন্ন করেছেন। জেনারেল শফিউদ্দিন বর্তমানে বিইউপিতে পিএইচডিতে অধ্যায়নরত। জেনারেল শফিউদ্দিন তার কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়াদি, শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং ডিফেন্স এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ সম্পর্কিত বিভিন্ন সেমিনার, সম্মেলন, কর্মশালা ইত্যাদিতে অংশ নিয়েছেন। দেশ ও বিদেশের জার্নালে তার স্বনামধন্য আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। লেঃ জেনারেল শফিউদ্দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করেছেন। উল্লেখযোগ্য দেশসমূহ মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, চায়না, ইউএসএ, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত, নেপাল, কুয়েত, মালদ্বীপ, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, রুয়ান্ডা, মরক্কো, কঙ্গো, জার্মানি, ফ্রান্স, কেনিয়া, ইউনাইটেড আরব আমিরাত ও থাইল্যান্ড। ব্যক্তিগত জীবনে জেনারেল শফিউদ্দিন বিবাহিত এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক।
সেনাবাহিনীর কোর্য়াটার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেঃ জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর খুলনা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৯ম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের সাথে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে ৪র্থ ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্ট-এ কমিশন লাভ করেন। তিনি সামরিক কর্ম জীবনে স্টাফ, প্রশিক্ষক এবং কমান্ড নিযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন। জেনারেল শফিউদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, একটি পদাতিক ব্রিগেড এবং একটি পদাতিক ডিভিশনসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী অপারেশনে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স কমান্ডার হিসেবে প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন কমান্ডের অনন্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন অফিসার। কমিশন পরবর্তী কাউন্টার ইনসারজেন্সি (Counterinsurgency) অপারেশন এলাকায় যোগদানপূর্বক তিনি তার সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন এলাকার পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বিভিন্ন ফরমেশন সদর দপ্তরে সিনিয়র অপারেশনাল এবং প্রশাসনিক স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাডেট কলেজ ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সদর দপ্তর আর্টডক এর চিফ অব ডকট্রিন ডিভিশন এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের ৭ মে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সফলতার সাথে ডিভিশন কমান্ড শেষে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এ ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন জাতিসংঘ সদর দপ্তর কর্তৃক মিনুস্কাতে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। তিনি বর্তমান পদবীতে পদোন্নতি লাভের পূর্বে এনডিসি এর এসডিএস (আর্মি-১) এবং লজিস্টিকস এরিয়ার জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল শফিউদ্দিন ২০১৯ সালের ২৫ জিওসি হিসেবে আর্টডক এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি (এনডিইউ)'তে আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ২০১০ সালে তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে ডিফেন্স এন্ড স্ট্রেটেজিক স্টাডিজ কোর্স, এনডিইউ, চায়না সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ হতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।
