আলী জামান
প্রেসিডেন্ট, এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ
প্রস্তাবিত বাজেট থেকে স্মল সেক্টরের কোনো প্রাপ্তি নেই। বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বলা হচ্ছে মূলত বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে। আর মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকও বড় বড় শিল্প গ্রুপগুলো। ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত পেইড আপ ক্যাপিটাল রয়েছে, এমন কোম্পানিগুলো এসএমইর আওতাভুক্ত। বড় বড় কোম্পানিগুলোর অনেক সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের পেইড আপ ক্যাপিটাল ৩০ কোটির মধ্যে। তাই এসএমইর জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসহ অন্যান্য ছাড়গুলো তারাই ভোগ করছে। ১০ কোটি টাকার কম পেইড আপ ক্যাপিটাল রয়েছে, এমন কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা করে প্রণোদনা কিংবা বাজেটে বাড়তি সুবিধা না থাকলে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য তা কোনো কাজে আসবে না। ক্ষুদ্র শিল্পগুলোর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রতিযোগিতা আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নসহ বৃহত্ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর এ ধরনের পণ্য উত্পাদন-বিপণন বন্ধ করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে এসএমই খাত। এই খাতে ব্যবসা বাড়ে, উত্পাদিত পণ্য বাড়ে, উদ্যোক্তা বাড়ে ও অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু সরকারের প্রণোদনার অগ্রভাগই পেল মূলত বড় শিল্প খাত। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রতিকূলতা থেকে এসএমই খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো প্রয়োজন। দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরির গবেষণা ও স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য সব ধরনের বিনিয়োগকে করমুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া গ্যাস/বিদ্যুিবলসহ সরকারি সব লাইসেন্স ও সার্টিফিকেটের ওপর ভ্যাট মওকুফ করা প্রয়োজন।
